সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিকের সম্মানে ৩ জুলাই বিশেষ গণবৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

আপলোড সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ১০:০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-০৭-২০২৬ ১০:১০:২০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক 


সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিকের সম্মানে ৩ জুলাই বিশেষ গণবৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শিশুর জন্মকে কেন্দ্র করে পরিবেশ সংরক্ষণ, সদকায়ে জারিয়া এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হাউস অব আল তৌফিকী। শিক্ষাবিদ, লেখক ও সমাজসেবক তৌফিক সুলতান তাঁর প্রথম পুত্র সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক-এর আকিকা উপলক্ষে ঘোষিত ৭৭ দিনব্যাপী গণবৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) বিশেষ বৃক্ষরোপণ দিবস পালন করছেন। "


একটি শিশু—একটি গাছ, একটি গাছ—একটি সদকায়ে জারিয়া" এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু বৃক্ষরোপণ নয়; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, খাদ্যনিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং ইসলামের দৃষ্টিতে চলমান সওয়াবের সংস্কৃতি সমাজে প্রতিষ্ঠা করা।


শিশুটির আনুষ্ঠানিক নাম রাখা হয়েছে সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক। তিনি ২০২৬ সালের ৯ জুন, মঙ্গলবার, বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ২০ মিনিটে (হিজরি ২২ জিলহজ ১৪৪৭) গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও (Targaon) এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মস্থানের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ২৪°০৭'১৭.৫" উত্তর, ৯০°৩৪'০৫.৬" পূর্ব এবং ভূমিষ্ঠকালীন তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি মো. তৌফিক হোসাইন (তৌফিক সুলতান) ও তৌফিকা সুলতানা ঋতু দম্পতির প্রথম সন্তান।


এক আবেগঘন ঘোষণাপত্রে পিতা বলেন, “আমি এ শিশুকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দরবারে সঁপে দিয়েছি, দীন ও মিল্লাতের খেদমতে উৎসর্গ করেছি।” তিনি ‘রব্বি হাবলি মিনাস সালিহিন’—হে আমার প্রতিপালক, আমাকে এক সৎপুত্র দান করো—এই দোয়ার পুনরাবৃত্তি করে সন্তানকে ধর্মের একনিষ্ঠ সেবকে পরিণত হওয়ার গভীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আনুষ্ঠানিক আকিকা ও দোয়া মাহফিল ১৫ জুন ২০২৬, সোমবার দুপুরে নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বিপরীতে পারিবারিক বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। বর্জ্জাপুর ঈদগাহ মাঠের ইমাম সাইফুল্লাহ তারেকী দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন এবং নবজাতকের দীর্ঘ নেক হায়াত, সুস্বাস্থ্য ও নেককার জীবন কামনা করেন। অনুষ্ঠানে ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল, নরোত্তমপুর মোহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া এতিমখানা (চুরার টেক মাদ্রাসা), ভাওয়াল ইসলামিক ক্যাডেট একাডেমি এবং ব্রেভ জুবিলেন্ট স্কলার্স অফ মনোহরদী মডেল কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব, আত্মীয়স্বজন ও সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবেশীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।


উদযাপনের সূচনা হয়েছিল আরও তিন দিন আগে, ১২ জুন। ওই দিন কাপাসিয়ার নয়টিরও বেশি মসজিদ এবং নরোত্তমপুর, বারিষাব ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। প্রতিটি মসজিদের খতিবের কাছে আকিকা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিবরণসংবলিত আনুষ্ঠানিক পত্র পৌঁছে দেওয়া হয় এবং দোয়ার আবেদন জানানো হয়—পুরো সমাজের আধ্যাত্মিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার এটি ছিল এক সুচিন্তিত প্রয়াস। সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিকের জন্য দুটি ছাগল আল্লাহর নামে জবেহ করা হয়। আকিকা উপলক্ষে ছিল বিশেষ আয়োজন বৃক্ষরোপণ ও খাবারের বিশেষ ব্যবস্থা। যাঁরা উপস্থিত হয়েছিলেন সবাই আনন্দিত হন। ইসলামের আলোকে বৃক্ষরোপণ ইসলামে বৃক্ষরোপণকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, «"কোনো মুসলিম যদি একটি গাছ রোপণ করে, এরপর মানুষ, পাখি কিংবা অন্য কোনো প্রাণী তা থেকে উপকৃত হয়, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।"» অন্য একটি বিখ্যাত হাদিসে এসেছে, «"যদি কিয়ামত সংঘটিত হয় আর তোমাদের কারও হাতে একটি চারাগাছ থাকে, তবে সে যেন তা রোপণ করে।"» এই শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতেই হাউস অব আল তৌফিকী দীর্ঘমেয়াদি এই সবুজ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। বিশেষ দিনের কর্মসূচি ৩ জুলাইয়ের বিশেষ কর্মসূচিতে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও ছায়াবৃক্ষসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ ও বিতরণ করা হবে।


রাস্তার পাশে, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয়, এতিমখানা, কবরস্থান, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চারা রোপণ করা হবে। যাঁরা নিজ বাড়িতে চারা সংগ্রহ করবেন, তাঁদের জন্য একটি সদকামূলক শর্ত রাখা হয়েছে—গাছ থেকে ভবিষ্যতে প্রাপ্ত ফল, কাঠ বা অন্য যেকোনো উপকারের অর্ধেক নিয়মিতভাবে একটি মাদ্রাসায় দান করতে হবে। বাকি অর্ধেক পরিবার নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন। এর মাধ্যমে একটি গাছ বহু বছর ধরে মানুষের উপকারের পাশাপাশি দান ও কল্যাণের ধারাবাহিক মাধ্যম হয়ে থাকবে। পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে, অক্সিজেন সরবরাহ করে, বন্যপ্রাণীর আবাস তৈরি করে, মাটির ক্ষয় রোধ করে এবং স্থানীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এখন সময়ের দাবি।


এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিশু জন্মের আনন্দকে শুধুমাত্র পারিবারিক উৎসবে সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। চারা সংগ্রহের স্থান হাউস অব আল তৌফিকী বাড়ি নং-৪০৫ ১০৩/৭৭ আল তৌফিকী পরিবার রোড নরোত্তমপুর, বারিষাব-১৭৪৩ কাপাসিয়া, গাজীপুর (নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বিপরীত পাশে) আগ্রহী ব্যক্তি, পরিবার, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীরা নির্ধারিত স্থান থেকে বিনামূল্যে চারা সংগ্রহ করতে পারবেন। আয়োজকের বক্তব্য আয়োজক তৌফিক সুলতান বলেন, "আমরা চাই, একটি শিশুর জন্মের আনন্দ যেন হাজারো গাছের জন্মের কারণ হয়। একটি গাছ কেবল ফল বা ছায়া দেয় না; এটি মানুষের উপকার করে, পরিবেশকে বাঁচায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সদকায়ে জারিয়ার অবিরাম উৎস হয়ে থাকে। যদি আমাদের এ ছোট উদ্যোগ অন্য পরিবারগুলোকেও অনুপ্রাণিত করে, তাহলে প্রতিটি নবজাতকের আগমনে বাংলাদেশ আরও সবুজ হয়ে উঠবে।" সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান হাউস অব আল তৌফিকী সকল নাগরিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, যুবসমাজ ও পরিবেশপ্রেমী মানুষকে এই বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আয়োজকদের বিশ্বাস, একটি গাছ রোপণ মানে শুধু একটি চারা মাটিতে স্থাপন করা নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]