‎গ্যাসের চুলার মত বিকল্প চুলা তৈরি করে আলোচনায় কুড়িগ্রামের রিয়াজুল

আপলোড সময় : ০২-০৭-২০২৬ ০৯:৫৬:০৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০২-০৭-২০২৬ ১০:০৩:৫২ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-


কুড়িগ্রামে জ্বালানি সংকট ও রান্নার ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে পরিত্যক্ত মোবিল ব্যবহার করে একটি বিকল্প চুলা তৈরি করেছেন স্থানীয় উদ্ভাবক মো. রিয়াজুল ইসলাম। তার এই উদ্ভাবন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবহৃত মোবিল পোড়ানোর আগে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার থেতরাই বাজার এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় চা দোকানি মোঃ রিয়াজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প খরচে রান্নার উপযোগী প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে আসছেন। তার তৈরি চুলায় রেগুলেটর, এয়ার কুলার ফ্যান ও ব্যাটারির সমন্বয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বাতাস সরবরাহ করা হয়।


এতে মোবিল সূক্ষ্মভাবে ছড়িয়ে দ্রুত জ্বলে এবং অধিক তাপ উৎপন্ন হয় বলে তিনি দাবি করেন। মোঃ রিয়াজুল জানান, একটানা প্রায় ১০ ঘণ্টা রান্নার জন্য মাত্র ২ লিটার পরিত্যক্ত মোবিল প্রয়োজন হয়, যার খরচ প্রায় ১২০ টাকা। এছাড়া মোবিল না থাকলেও ছোট ছোট কাঠ ব্যবহার করে একই চুলায় রান্না করা সম্ভব। স্থানীয় বাজার থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কিনে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায় পুরো চুলাটি তৈরি করা যায় বলেও জানান তিনি। চুলাটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ফারুক বলেন, গ্যাস ও এলপিজির ক্রমবর্ধমান দামের কারণে এ ধরনের বিকল্প প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী সমাধান হতে পারে। তবে এ প্রযুক্তির নিরাপত্তা ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগের প্রধান (১ম শিফট) মোঃ ফিরোজ আলম বলেন, ব্যবহৃত মোবিল দাহ্য হলেও এতে ইঞ্জিনের ক্ষয়প্রাপ্ত ধাতব কণা ও অন্যান্য দূষিত উপাদান মিশে থাকে। ফলে এটি পোড়ানোর পরিবেশগত প্রভাব যাচাই করা জরুরি। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মির্জা মোঃ নাসির উদ্দীন বলেন, বর্জ্য তেল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে বায়ুদূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই ব্যাপক ব্যবহারের আগে পরিবেশগত মূল্যায়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের সহকারী পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম বলেন, ব্যবহৃত মোবিল নিরাপদভাবে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে বিশেষ বার্নার ও ফিল্টারিং ব্যবস্থার প্রয়োজন।


এ ধরনের বর্জ্য তেল শিল্পকারখানা বা অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থায় ব্যবহার করাই অধিক উপযোগী। স্থানীয়দের মতে, উদ্ভাবনটি জ্বালানি সাশ্রয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই বৃহৎ পরিসরে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]