কুড়িগ্রামে ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যান চলাচল বন্ধ; ভোগান্তি চরমে

আপলোড সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০৯:৩৪:১৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০৯:৩৯:৪২ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-


কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মেয়াদ উত্তীর্ণ ১৪০ বছরের সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (১ জুলাই ) সকালে সোনাহাট সেতুর স্টিলের অংশের পাটাতন ভেঙে একটি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক আটকে যায়। এতে ট্রাকসহ সব ভারি যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে করে সেতুর দুই পাড়ে যানবাহনের লম্বা সারি দেখা গেছে।


সেতুটি দীর্ঘ দিনের পুরানো ও মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছিল বিভিন্ন যানবাহন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেতুটির বিভিন্ন স্থানে পাটাতন ভেঙে গেছে এবং ট্যাংক জাম (লোহার পাতি) খুলে গেছে। তবুও জীবন জীবিকার তাগিদে এতদিন ঝুঁকি নিয়েই চলছিল যানবাহন। স্থানীয়রা বলছেন, ব্রিটিশ শাসন আমলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করা হয়। তারই অংশ হিসেবে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত হয় ১২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রবেশ ঠেকাতে সেতুটির একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়।


দেশ স্বাধীন হওয়ার দীর্ঘদিন পর এরশাদ সরকারের আমলে সেতুটি মেরামত করে ভূরুঙ্গামারী দক্ষিণের তিন ইউনিয়ন ও কচাকাটা ও মাদারগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সচল করা হয়। নির্মাণকালে সেতুটির আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়ে ছিল ১০০ বছর। সেই মতে সোনাহাট সেতুর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে ৪০ বছর আগেই। নড়বড়ে সেতুটি যে কোনো সময় ভেঙে পড়ে ঘটতে পাড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে সোনাহাট স্থল বন্দরের যাবতীয় কার্যক্রম। ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুটি পাশে দুধকুমার নদের দক্ষিণে মোট ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সোনাহাট সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। ওই সেতুটির নির্মাণকাজের মেয়াদ ২ বছর ধরা হলেও ৮ বছরেও শেষ করতে পারেনি কৃর্তপক্ষ। তাই সেতুটির কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি স্থানীয়দের।


সোনাহাট সেতু পাড়ের ব‍্যবসায়ী মোঃ ফরিদুল ইসলাম, মোঃ শফিকুল ইসলাম ও মোঃ নুর ইসলাম জানান, এই রেলসেতু দিয়ে পাথর বোঝাই ট্রাক যাওয়ার সময় সেতুটি থরথর করে কাঁপতে থাকে। এছাড়া সরু সেতু দিয়ে যখন একটি ট্রাক যায় তখন পাশ দিয়ে অন্য যানবাহন যাওয়ার জায়গা থাকে না। এতে সেতুর দুই প্রান্তে প্রতিনিয়ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানী ও রপ্তানীকারক ব‍্যবসায়ী মোঃ আবু হেনা মাসুম জানান, নিয়মিত সেতুর পাটাতন ভাঙে আর সড়ক বিভাগ সেটি মেরামত করে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে যদি পণ্যবাহী গাড়ি না চলে, তাহলে স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানী কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে সরকার বিপুল পরিমানে রাজস্ব হারাবে। এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানান, সেতুটি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। ওভার লোড বহনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলার সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোঃ নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, সেতুটি মেরামতের জন‍্য দ্রুত ব‍্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মেরামতের কাজ করে খুব দ্রুত যানচলাচলের জন্য স্বাভাবিক করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]