মুলাদীতে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর-হত্যার হুমকি, ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে জিডি।

আপলোড সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০৭:২৪:৩৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০৭:২৭:২০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি



বরিশালের মুলাদীতে ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর ও গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটে। নদীভাঙনকবলিত অসহায় মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণের চাল বিতরণের তালিকা প্রস্তুতের সময় ৬ নম্বর মুলাদী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. জাকির হোসেন সিকদারকে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে মারধর, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।


উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব বেল্লাল হোসেন সরদার ও তাঁর লোকজন মারধর এবং হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন জাকির হোসেন সিকদার। এই ঘটনায় জাকির হোসেন বাদী হয়ে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ ও জিডি সূত্রে জানা যায়, মুলাদী সদর ইউনিয়নের নদীভাঙনকবলিত অসহায় মানুষের জন্য ৩ টন চাল বরাদ্দ করা হয়।


মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার তাঁর অফিস কক্ষে বসে ওই চাল প্রদানের জন্য সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করছিলেন। ওই সময় বেল্লাল হোসেন সরদার, সুজন চৌকিদারসহ ছাত্রদলের পাঁচ-ছয়জন নেতা-কর্মী হঠাৎ তাঁর রুমে প্রবেশ করেন। কার অনুমতিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, তা জানতে চেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে ওই কর্মকর্তাকে চড়থাপ্পড় ও কিলঘুষি মেরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। সেখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় তাঁরা ওই কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন সিকদার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, ছাত্রদল নেতা বেল্লাল সরদার এর আগেও তাঁর অফিস কক্ষের আসবাব তছনছ করেছিলেন।


এ ছাড়া বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় ভিজিএফ চাল বিতরণে বাধা দিয়ে বরাদ্দের ৫০ শতাংশ চাল তাঁদের দেওয়ার দাবি করেছিলেন। এমনকি দরিদ্র নারীদের দুই বছর মেয়াদি ভিডব্লিউবি চালের কার্ড বিতরণের সময়ও তাঁরা জোরপূর্বক কার্ড ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুলাদী সদর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, নদীভাঙনকবলিত ১৫০ জন মানুষের জন্য ২০ কেজি করে ৩ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই চালের ২০ শতাংশ হিসেবে ৩০ জনের তালিকা দিতে চেয়েছিলেন ছাত্রদল নেতা বেল্লাল সরদার। কিন্তু পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁকে ২০ জনের নাম দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এতে তিনি রাজি না হলে চেয়ারম্যান তাঁকে ২৫ জনের নাম দিতে বলেন। চেয়ারম্যান পরিষদ থেকে বের হওয়ার পর ওই ছাত্রদল নেতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর ও গুলি করার হুমকি দেন।মুলাদী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কামরুল আহসান বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি শুনেছি। আমি অসুস্থ থাকায় ঘটনার দিন পরিষদ থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়েছিলাম। আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’


এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রদল সদস্যসচিব বেল্লাল হোসেন সরদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ’ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হয়নি। গত মঙ্গলবার আমি পরিষদে যাইনি। তবে ওই দিন কয়েকজনের সঙ্গে জাকির হোসেনের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির বিষয়টি শুনেছি। আমি মুলাদী সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও জিডি করা হয়েছে।’ মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জিডি করেছেন। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।


সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ করেছেন। থানায় জিডি হয়েছে এবং জিডি কপি আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। আদালতের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]