বার বার ভাঙ্গনে আঁখি হারিয়েছে শেষ সম্বলও, বিস্তৃর্ণ খোলা আকাশ আজ তার ঘরের ছাদ

আপলোড সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০৪:৫২:১৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০৪:৫৫:২৩ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-


রাত নামলেই আকাশটাই এখন তাঁর ঘরের ছাদ। বৃষ্টি এলে প্রতিবন্ধী সন্তানকে বুকে জড়িয়ে বসে থাকেন। ভোর হতেই শুরু হয় অনিশ্চয়তার আরেকটি দিন। চার দিন ধরে এভাবেই জীবন কাটছে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার মোছাঃ আঁখি বেগমের। ৩২ বছর বয়সী আঁখি বেগমের জীবনের গল্প যেন ব্রহ্মপুত্রপারের হাজারো নদী ভাঙন কবলিত মানুষের গল্প।


কয়েক বছর আগে ভয়াল নদীভাঙনে হারিয়েছেন ভিটেমাটি, জমিজমা, গাছপালা ও বহু বছরের গড়ে তোলা সংসার। তখন পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন চিলমারী ইউনিয়নের বিশারপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে। ভেবেছিলেন, অন্তত মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ঠাঁই মিলেছে। এবার সেই আশ্রয়ও কেড়ে নিয়েছে ব্রহ্মপুত্র। সরেজমিনে বিশারপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, খোলা জায়গাজুড়ে পড়ে আছে ভাঙা খাট, কিছু কাপড়চোপড়, কয়েকটি ব্যাগ আর একটি ভেঙে যাওয়া সংসারের শেষ স্মৃতিচিহ্ন। সেগুলোর পাশেই নির্বাক বসে ছিলেন আঁখি বেগম।

কথা বলতে গিয়ে বারবার কাঁদছিলেন। কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলেন, ‘আগেও নদী আমাদের সব নিয়ে গেছিল। পরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটা ঘর পাইছিলাম। ভাবছিলাম, এবার আর কষ্ট হবে না। সেই ঘরটাও নদী নিয়ে গেল। এখন চার দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে আছি। রাতে বৃষ্টি হলে প্রতিবন্ধী বাচ্চাটারে বুকে নিয়ে বসে থাকি। আল্লাহ ছাড়া আমাদের দেখার কেউ নাই।’ মোছাঃ আঁখি বেগমের এই আর্তনাদ যেন শুধু একজন মায়ের নয়, ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বারবার উচ্ছেদ হওয়া হাজারো মানুষের দীর্ঘশ্বাস। শুধু মোছাঃ আঁখি বেগমের পরিবার নয়, চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাটী, কড়াইবরিশাল, বিশারপাড়া ও আশপাশের এলাকাজুড়ে একই চিত্র।

স্থানীয়দের দাবি, মাত্র এক সপ্তাহেই অন্তত ৫০টি পরিবারের বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। হারিয়ে গেছে শত শত একর আবাদি জমিও। বিশারপাড়া গ্রামের মোঃ শাহিন মিয়া, মোঃ তোফায়েল হোসেন ও মোঃ মুকুল মিয়া বলেন, ‘আমরা শুধু ঘর হারাইনি, বেঁচে থাকার ভরসাটাও হারিয়েছি। লাখ লাখ টাকার সম্পদ নদীতে চলে গেছে। ত্রাণ নয়, আমরা নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধান চাই।’


ভাঙনের তীব্রতায় ইতোমধ্যে ছয়টি বিদ্যুতের খুঁটি নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে প্রায় ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের টিনশেড ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং নবনির্মিত আশ্রয়কেন্দ্র। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গত দুই বছরে ইউনিয়নের প্রায় ৬৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন যে হারে ভাঙন চলছে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ইউনিয়নের বড় একটি অংশই নদীতে চলে যাবে।

’ কুড়িগ্রাম জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, ‘চরাঞ্চলের দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]