কুড়িগ্রামে বাড়ছে সব নদ-নদীর পানি, বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপরে দুধকুমারের পানি

আপলোড সময় : ২৯-০৬-২০২৬ ০২:৪৭:০৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৬-২০২৬ ০২:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-


উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের পানির সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৯টায় কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাটেশ্বরী গেজ স্টেশনে নদের পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তার পানির সমতল দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় জেলার নদ-নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে পরামর্শ দিয়েছে পাউবো।


দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র ও শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রেখেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার কুড়িগ্রাম জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, কুড়িগ্রাম জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বাড়ছে। রবিবার সকাল ৯ টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দুধকুমার নদের পানি ৯৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে পাটেশ্বরী গেজ স্টেশনে বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল দ্রুত গতিতে বাড়ছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী ৪ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ৩০ জুন থেকে ২ জুলাই নদের পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হয়ে এর নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।


আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যের বরাতে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম প্রদেশে আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতিভারী এবং পরবর্তী একদিন মাঝারি ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী তিন দিন রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও গাইবান্ধা জেলা সংলগ্ন এসব নদীর নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তবে রবিবার সন্ধ্যার পর উজানে ভারতের দোমোহনী এবং গজলডোবা পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরেও এই নদীর পানির সমতল কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পাউবো কুড়িগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, ‘কুড়িগ্রাম জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। ব্রহ্মপুত্রসহ সব নদ-নদীর পানি বাড়ছে।

ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বাড়তে থাকলে অন্য নদীর পানি সহসাই নেমে যেতে পারে না। ফলে বন্যার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে।


’ কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]