নোটিশের পরেও স্কুল ফিডিং এ মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি সরবরাহের অভিযোগ

আপলোড সময় : ২৮-০৬-২০২৬ ০৭:৩৪:১৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০৬-২০২৬ ০৭:৩৭:৫০ অপরাহ্ন
গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি


উপজেলা প্রশাসনের নোটিশের পরেও স্কুল ফিডিং এ শিশুদের মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি সরবরাহ করা হয়েছে। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ধামাচাপা দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বার বার এমন অভিযোগ শিক্ষকদের। অপর দিকে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি নিয়ে বিপাকে আছেন শিক্ষকরা। কারণ দর্শানো নোটিশে জবাবে এমন ভুল আর না করার শর্তে ক্ষমা চেয়ে মাস পেরোনোর আগেই এ মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।


গলাচিপা পৌর এলাকার সাংবাদিক গনি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেরিন সাগর বলেন,শনিবার ২৭তারিখ যখন ড্রাইভার আমাদেরকে রুটি দিয়ে যায় তখন কিছু রুটি খোলা ছিল আর বাকিগুলো ইনটেক কাটনে ছিল। তখন আমি খোলা রুটিগুলো দেখছি তার মেয়াদ ২৯.০৬.২৬ পর্যন্ত দেখে আমি রিসিভ করেছি। রিসিভ করার পর খোলা রুটিগুলো বাচ্চাদের মধ্যে দিয়ে দিয়েছি কিন্তু যখন আমি ইনটেক কাটন থেকে রুটি বের করে দিতে গেলাম তখন দেখি এগুলোর গায়ের মেয়াদ শেষ তারিখ ২৬জুন ২০২৬ ।


পরে আমি আরো কয়েকটা প্যাকেট দেখি একি তারিখের শেষ মেয়াদে তারপর সাথে সাথেই আমি রুটি দেওয়া বন্ধ করে দেই। বিষয়টি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানাই। এরপর আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের একটা গ্রুপ আছে সেখানেও দেখতে পেলাম বিভিন্ন স্কুল থেকে এই একই সমস্যার চিত্র। পরবর্তীতে ড্রাইভারকে ফোন দেই এবং ড্রাইভার আমাকে তাদের অফিসে ফোন দিতে বলে।


আমি সাথে সাথেই তাদের অফিসে পুলক কর্মকারকে ফোন দেই, ফোন দেওয়ার পর ড্রাইভার এসে আমার এখান থেকে রুটিগুলো ফেরত নিয়ে যায়। আজকে এখন পর্যন্ত তারা বিদ্যালয়ে রুটি দিয়ে যায় নাই যার কারণে আজকে বাচ্চাদের রুটি দিতে পারি নাই। পৌর এলাকার ডাকুয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সালমা বেগম বলেন, আমাদের স্কুলে বাচ্চাদের জন্য দুই দিনের মোট ৩৪৪টি রুটি দিয়ে গেছে তার মধ্যে ৪৪ টা রুটির মেয়াদ নাই।


এই রুটিগুলো আমরা ভিন্ন করে কাটুন করে রাখছি কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা স্কুল থেকে নেয়নি আর নতুন রুটি দিয়েও যায় নাই। ফুলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা বেগম বলেন,গাড়ির ড্রাইভার বিদ্যালয়ে খাবার দিয়ে যাবার পর শিক্ষকরা রুটির কার্টুন খুলে বাচ্চাদের মধ্যে বিতরণকালে রুটির গায়ে মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে দেখতে পায়। এ অবস্থায় আমরা বাচ্চাদের মধ্যে রুটি বিতরণ বন্ধ করে দেই এবং ড্রাইভারকে ফোন দিয়ে সাথে সাথে তা ফেরত দিয়ে দেই। গতকাল এবং আজকে এই দুইদিন আমরা বিদ্যালয়ে বাচ্চাদের রুটি দিতে পারি নাই। এ বিষয়ে স্কুলে খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পটুয়াখালী জেলার ম্যানেজার আমজাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,রুটিতে তারিখের সিল ভুলবসত ২৯ তারিখের জায়গায় ২৬ তারিখ পড়েছে। আমরা এটা নিয়ে নতুন কাজ করছি তাই কিছু ভুল হতে পারে, ভবিষ্যতে এমন ভুল আর হবে না। আমাদেরকে উপজেলার ১৯৬টি স্কুলে ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে খাবার সরবরাহ করতে হয়। তাই আমাদের লোকবল বাড়ানোর চেষ্টা করছি যাতে আমরা সবদিকে ভালভাবে খেয়াল রাখতে পারি। এবিষয় নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম সগীর এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কালকে আমি সংবাদ পেয়েই পানপট্টি খরিদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেছিলাম। গিয়ে আমি দেখতে পাই ওরা যে রুটিগুলো দিয়েছে তার ম্যানুফ্যাকচার ডেট ২৫ জুন ও এক্সপেয়ার ডেট দেয়া আছে ২৬ জুন। এছাড়া আরো অর্ধেক রুটি আছে ২৫ জুন ম্যানুফ্যকচার ডেট ও ২৯ জুন এক্সপেয়ার ডেট। যারা খবার সরবরাহ করে তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেন -যে তাদের প্রিন্টিং মিস্টেক হইছে। তবে স্কুলে নির্দেশ দেয়া আছে সব স্কুল থেকে এই রুটি যার এক্সপেয়ার ডেট ২৬ জুন দেয়া আছে সেটা সরিয়ে নিবে। আর তারা যদি ওই রুটি সরিয়ে না নেয় তাহলে ওই রুটির বিল বন্ধ থাকবে এবং রুটিগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে না। তিনি আরো বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কয়েক সপ্তাহ আগেও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নোটিশে তারা ক্ষমা চেয়েছে এবং এমন ভুল আর করবেন না বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু তারা আবারো একই ভুল করে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো: ইজাজুল হক বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। এ ব্যাপারে অতিদ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]