এক যুগ ধরে পড়ে আছে ভাঙা ব্রিজ, ২০ হাজার মানুষের ভোগান্তিতে চলাচল

আপলোড সময় : ২৭-০৬-২০২৬ ১০:১১:৪৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৬-২০২৬ ১০:১১:৪৪ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের খালের ওপর নির্মিত ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় ও সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় এক যুগ ধরে ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে জনতার হাট সড়কের সাঁকোর পাড় গ্রামে খালের ওপর ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটি নির্মাণ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। সে সময় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজটি উদ্বোধনের এক বছর না যেতেই বন্যার পানির তোড়ে একপাশ ভেঙে দেবে যায় এবং ভেঙে যায় দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এরপর থেকেই উলিপুর উপজেলা ও কুড়িগ্রাম জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দুই পাড়ের থাকা লেনোর, কুরার পাড়া, বোতরা, দোলান, পাঁচগ্রাম, নদীরপাড়, পানাতি পাড়া, বটতলসহ ১০ গ্রামের প্রায় ২০ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সড়কটির যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজ, মাদরাসাগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে যাওয়া স্থানীয় কৃষকরা। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাঁকোর পাড় এলাকার মোঃ আলামীর হোসেন (৫০) বলেন, ব্রিজটি করার পরপরই বন্যার পানির স্রোতে একপাশ ভেঙে দেবে যায়। এরপর থেকে চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে এবং বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হয় নাই। একই এলাকার মোঃ জনাব আলী (৬০) বলেন, বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন থেকে উলিপুর এবং কুড়িগ্রামে যাওয়ার এটাই ছিল সবচেয়ে সহজ রাস্তা। কিন্তু ব্রিজটি পানির মধ্যে ভেঙে পড়ে থাকায় আমরা অবরুদ্ধ হয়ে আছি। এখানে দ্রুত একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হলে ১০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হবে। স্থানীয় বাসিন্দা রবিদাস (৫৫) বলেন, এখানে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে কম যায়। শিক্ষার্থী মোছাঃ জুই আক্তার জানায়, বর্ষা মৌসুমে পানি হলে নৌকা দিয়ে পার হতে হয়, তখন ভয় লাগে। স্কুলে ঠিকমতো যাইতে পারি না। শুকনা মৌসুম এলে অনেক দূর ঘুরে স্কুলে যেতে হয়, তাতে খুব কষ্ট হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মোছাঃ নুর নাহার বেগম (৫০) বলেন, ‘হামার ব্রিজটি দেখি কাইয়ো দেখে না এমপি চেয়ারম্যান-মেম্বার খালি ভোট নিয়ে যায়। হামরা কি এই দেশের মানুষ নই সরকারেও দেখে না। কেউ অসুস্থ হইলে অনেক দূর ঘুরি নিয়ে যাওয়া লাগে। তাই হামাক ব্রিজটা বানে দেও।’ স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল জলিল (৬০) বলেন, ব্রিজটি বানানোর পর এক বছরের মধ্যে বন্যার পানিতে ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে বাঁশের সেতু দিয়ে চলাচল করছিল, পরে সেটা ভেঙে গেলে আর করা হইনি। আমরা খুব কষ্টে যাতায়াত করছি। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান জানান, সাঁকোর পাড় গ্রামে যে ব্রিজটি ভেঙে গেছে। সেখানে নতুন ব্রিজের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]