গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ে ও টাকার জন্য নির্যাতন: স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ

আপলোড সময় : ২৫-০৬-২০২৬ ০৩:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৬-২০২৬ ০৫:৩৫:১২ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টারঃ


নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পিজাহাতি গ্রামের রশিদ উদ্দিনের ছেলে মোফাজ্জলের বিরুদ্ধে প্রথম স্ত্রীকে যৌতুকের টাকার জন্য বারবার নির্যাতন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মারধরের ফলে গর্ভের সন্তান নষ্ট হওয়া এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী শাহানা আক্তার কেন্দুয়া উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের জজ মিয়ার মেয়ে। ভুক্তভোগী শাহানা আক্তারের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি মোফাজ্জলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামী তার কাছে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। পারিবারিক অবস্থা ভালো না থাকলেও বিভিন্ন সময় বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে স্বামীকে দিয়েছেন তিনি। তার ভাই জুলাই যুদ্ধা হওয়ায় সরকারিভাবে টাকা পাওয়ায় পর মোফাজ্জলের টাকার চাহিদা দিন দিন আরও বাড়তে থাকে।

শাহানার ভাষ্য, তার স্বামী মাদকাসক্ত ও জুয়ায় আসক্ত। বিশেষ করে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকায় টাকার চাহিদা কখনোই শেষ হয় না। এর মধ্যেই তার অনুমতি ছাড়াই পাবনা জেলার সেতু আক্তার নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মোফাজ্জল। দ্বিতীয় বিয়ের পর তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন শাহানা। তিনি আরও জানান, আনুমানিক ২০/২১দিন আগে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মোফাজ্জল তাকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পেটে লাথি মারেন।

পরে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক তাকে জানান, তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে এবং জরায়ুতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার (২৪ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আবারও টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মোফাজ্জল তাকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন শাহানা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোফাজ্জলের সঙ্গে কথা হলে তিনি শাহানাকে মারধরের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, শাহানাকে নিয়ে আর সংসার করবেন না। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।

মোফাজ্জলের মা হারেছা আক্তার বলেন, আমার ছেলে উশৃঙ্খল প্রকৃতির। সে মাদকাসক্ত ও জুয়ায় আসক্ত হওয়ায় প্রায়ই নির্যাতন করে। গতকালও আমি আমার ছেলের বউকে হাসপাতালে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু সে আমার কথা শোনে না। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ বাঙালি বলেন, আমরা এলাকাবাসী বহুবার চেষ্টা করেছি, কয়েক দফা দরবারও করেছি। কিন্তু সে শুধরায়নি। এমনকি সে এলাকাবাসীর কথাও তোয়াক্কা করে না।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও মাসকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান সুমনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বসেছেন। কিন্তু ছেলেটি এখনো সংশোধন হয়নি।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]