জিএম শাওন
এনআরবিসি ব্যাংক যখন তৃতীয় চতুর্থ প্রজন্মের অন্য সকল ব্যাংক থেকে দুই ধাপ এগিয়ে থেকে সাফল্যের চূড়ায় অবস্থান করছিল ঠিক তখনই দানবের কালো থাবা পড়ে এনআরবিসি ব্যাংকের উপর। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের বোর্ড সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্তর্বর্তী বোর্ড গঠন করে দেয়। আর সেই বোর্ড চেয়ারম্যান জনাব আলী হোসেন প্রধানিয়া এমডি হিসেবে বেছে নেন তার পুরনো সহকর্মী তৌহিদুল আলম খানকে। যার অতীত ইতিহাসে দেখা যায় উনি কোন ব্যাংকে ৬ মাস থেকে এক বছরের বেশি দায়িত্ব পালনে সক্ষম হননি। সর্বশেষ ন্যাশনাল ব্যাংক এ নতুন পর্ষদ এসে যখন এই এমডির সিন্ডিকেটের দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন করে তখন তিনি মুচলেকা দিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেন। প্রায় এক বছর চাকরিহীন থেকে আলী হোসেন প্রধানীয়ার বদৌলতে জয়েন করেন এনআরবিসি ব্যাংকে। জয়েন করার এক বছরের মধ্যে অন্যান্য চারটি ব্যাংকে ভাইবা দিয়েও সফল হননি। আর এই ব্যাংকে জয়েন করেই তার পুরনো সিন্ডিকেট সদস্যদের নিয়োগ দেয়া শুরু করেন। মাত্র এক বছরে তিনি প্রায় ২০ জন এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেন শুধু তার সিন্ডিকেট পূর্ণ করার জন্য (তালিকা সংযুক্ত)।
এদেরকে এমন সব ব্যাংক থেকে আনা হয়েছে, যেসব ব্যাংকে বর্তমানে কর্মকর্তাদের বেতন একাউন্টে ঢুকলেও ক্যাশ উত্তোলনের সুযোগ নেই। কারণ ব্যাংকগুলো প্রায় বন্ধ হওয়ার উপপ্রান্তে কিংবা সরকারের দয়ায় কোনরকম চলমান আছে। বর্তমান এমডি এবং তার সিন্ডিকেট দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই অসহায় অবস্থায় সুযোগ নিয়ে প্রত্যেক কর্মকর্তার জন্য দশ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রায় একশোর উপর অফার লেটার দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, "বর্তমান বাজারে মাত্র ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে এনআরবিসি ব্যাংকের অফার লেটার পেয়েছি এটা আমার সৌভাগ্য"।
এছাড়া পদ্মা ব্যাংকের এক সাবেক কর্মকর্তা বর্তমানে এনআরবিসিতে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই প্রতিবেদককে জানান, "সিন্ডিকেট ঠিক থাকলে আমার দেয়া দশ লাখ টাকা তুলতে খুব বেশি সময় লাগবে না। আমি আমার মত আরও দুইজনের চাকরি দিতে পারলেই আমার ১০ লাখ টাকা উঠে যাবে।"
ব্যাংকের এই দানব সিন্ডিকেট ব্যাংকের ব্যবসা বৃদ্ধি এবং রিকভারির এর দিকে নজর না দিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভিতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে ব্যাংকের সকল সূচককে কিভাবে নিম্নগামী করা যায় সেই অপচেষ্টায়রত আছেন। জানা যায়, ব্যাংকে বিগত সাত মাস ধরে কোন ডেবিট কার্ডের সরবরাহ নেই। ফলে একাউন্ট খোলা কমে যাচ্ছে। শাখা ব্যবস্থাপকরা ব্যবসার জন্য বোর্ডের কোন সহযোগিতা পায় না। শাখা ব্যবস্থাপকরা হেড অফিসের কোন লজিস্টিক সহযোগিতা পায় না। বর্তমান এমডি ধরি মাছ না ছুঁই পানি অবস্থায় চলেন। বোর্ড অনুমোদিত লিমিট এর মধ্যেও কোন কাজ উনি সম্পাদন করেন না হয় তার নিচে ডিএমডি নয় তার উপরে বোর্ডের উপর চাপিয়ে দিয়ে সব কাজ দীর্ঘায়িত করেন। ফলে শাখা গুলোর ব্যবসা ধীরে ধীরে নিম্নগামী হচ্ছে। ব্যাংকের ভালো ভালো গ্রাহকরা ব্যাংকের এই দুরবস্থা দেখে অন্যান্য ব্যাংকে চলে গেছেন।
এদিকে ব্যাংকের ফরেন্সিক অডিটের অতি গোপনীয় তথ্য যা শুধুমাত্র ব্যাংকের এমডি এবং চেয়ারম্যান এর কাছে সংরক্ষিত ছিল তা সম্পূর্ণ ভুল ভাবে অতিরঞ্জিত করে টাকার বিনিময়ে পত্রিকায় প্রকাশ করেন এই এমডি এবং চেয়ারম্যান। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের কারণে ব্যাংকের সব থেকে ভালো এবং বড় গ্রাহক আকিজ গ্রুপ ব্যাংক ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইতিমধ্যেই।
ব্যাংকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আকিজ গ্রুপ শুধু এনআরবিসি ব্যাংকের না সারা দেশের জন্য একটি ভালো ব্যবসায়িক গ্রুপ এবং এই ব্যাংক থেকে আকিজ গ্রুপ কখনোই নিয়মবহির্ভূত কিংবা বিশেষ সহায়তার কোন ঋণ গ্রহণ করেনি। অযথাই এত বড় একটা ব্যবসায়িক গ্রুপের সুনাম ক্ষুন্ন করা হয়েছে। ব্যাংকের এমডি অন্তত একটি প্রতিবাদ পত্র পাঠাতে পারতেন তা তিনি পাঠান নি।
ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, মুছে ফেলা অধিকাংশ তথ্য ছিল দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অংশ হিসেবে সিস্টেমে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও ডেটা মেনটেনেন্স সংক্রান্ত, যা মূলত অ- আর্থিক তথ্য। এসব সংশোধনের ফলে কোন গ্রাহকের হিসাবের স্থিতি, আর্থিক লেনদেন, ব্যাংকের ব্যালেন্স শীট, মুনাফা বা মূলধনের উপর কোন প্রভাব পড়েনা এবং পড়েনি। ব্যাংকের সফটওয়্যার সার্ভিস দাতা লিডস ও ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক মেইলের মাধ্যমে কে পিএম জি কে একই ব্যাখ্যা প্রদান করে যা কেপিএমজি মেনেও নেয়।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখিত বিষয়ে নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, ১২০০০ KYC বিহীন অ্যাকাউন্টের মধ্যে রূপপুর শাখায় প্রায় আট হাজার একাউন্ট আছে বিভিন্ন কন্টাকটার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের একাউন্ট এবং বাকিগুলো বিভিন্ন শাখার সরকারি বিভিন্ন ভাতার একাউন্ট। কেপিএমজি অভিযোগ তোলার সাথে সাথেই ঐ সকল একাউন্টের কিওয়াইসি আপডেট করে সিস্টেমে ইনপুট দেয়া হয়। অল্প সময়ে কয়েক হাজার একাউন্ট খুলে দ্রুত সার্ভিস প্রদানের উদ্দেশ্যে এবং এই সকল শ্রমিকদের একাউন্টে খুব অল্প পরিশ্রমিকের টাকা লেনদেন হওয়ার কারণে সময়ের স্বল্পতায় কেওয়াইসি তথ্য সিস্টেম আপডেট করা হইছিলো না।
কিন্তু এগুলো সবই কেপিএমজি কোন অভিযোগ আকারে না তুললেও ব্যাংকের এমডি এবং চেয়ারম্যান ইচ্ছাকৃতভাবে দৈনিক পত্রিকায় রিপোর্ট করান সাজানো তথ্য দ্বারা। যার মূল উদ্দেশ্য ২৫শে জুনের ব্যাংকের এজিএম।
উল্লেখ্য যে, ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার বিহীন দ্বিতীয় এজিএম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ শে জুন ২০২৬। উক্ত এজিএমে যাতে কোন উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার অংশগ্রহণ করতে না পারে বা বাংলাদেশ ব্যাংক যাতে বোর্ড পুনর্গঠন এর জন্য কোন প্রকার নির্দেশ দিতে না পারে এজন্য উদ্যোক্তা শেয়ার হোল্ডার গণের বিগত কার্যক্রমকে বিতর্কিত করতে, তাদের চরিত্রে কালিমা লেপনের উদ্দেশ্যে এরকম বানোয়াট রিপোর্ট করানো হয়।
এখানে উল্লেখ্য যে, এনআরবিসি ব্যাংকের সকল উদ্যোক্তা শেয়ার হোল্ডারগন প্রবাসী এবং তারা অধিকাংশ সময় প্রবাসেই বসবাস করেন। প্রবাসের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের টাকা বৈধ পথে দেশে এনে ব্যাংকে বিনিয়োগ করে তারা এখন বিনিয়োগ হারানোর আশঙ্কায় বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। উদ্যোক্তাদের সবাই চাচ্ছেন এই দানবের হাত থেকে ব্যাংককে রক্ষা করতে। উদ্যোক্তাদের প্রাণের দাবি বাংলাদেশ ব্যাংক এজিএম এর আগে বোর্ড পুনর্গঠন করে উদ্যোক্তাদের হাতে ব্যাংকের দায়িত্ব দিয়ে দেয়া হোক। কারণ কেপিএমজি ৬ মাসের দীর্ঘ ফরেনসিক অডিটেও এনআরবিসি ব্যাংকে একটি বেনামি লোনের অস্তিত্ব পায়নি বা পরিচালকদের ব্যাংক থেকে টাকা লুটের কোন হদিস পায়নি- যদিও বাংলাদেশের সকল ব্যাংকে এটাই সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর কারণ হিসেবে অনেকেই বলেন যেহেতু এই ব্যাংকের সকল উদ্যোক্তা বিদেশে প্রতিষ্ঠিত চাকুরীজীবী বা ব্যবসায়ী এজন্য কেউই এই ব্যাংকের টাকার প্রতি লোভ করেননি। এছাড়া এদের কেউই এ দেশের কোন ব্যবসার সাথেও জড়িত নন।
ব্যাংকের একাধিক গ্রাহক, কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদককে জানান, যদি বাংলাদেশ ব্যাংক অতি শীঘ্রই বোর্ড পুনর্গঠন না করে এবং এই এমডিকে তার সিন্ডিকেটসহ বরখাস্ত না করে তাহলে বাংলাদেশ অচিরেই আরেকটি ব্যাংকের পতন দেখতে পাবে।
ব্যাংকের বর্তমান এমডি এবং তার সিন্ডিকেট ব্যাংকের জন্য এক টাকা ডিপোজিট এবং একটি টাকার ব্যবসা ও আনতে না পারলেও ব্যাংক ম্যানেজারদের চাপ প্রয়োগ করছেন এবং চিঠি দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণের জন্য। এমনকি জুনের ১৫ তারিখে চিঠি দিচ্ছেন জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে নতুন ঝুঁকিপূর্ণ ( পূর্বে বিতরণকৃত এই সেক্টরের অধিকাংশ ঋণ খারাপ) ঋণ বিতরণের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং জুলাই মাস থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দেন। একাধিক শাখা ব্যবস্থাপক জানান, গত বছরও একইভাবে এই সময়ে নতুন ব্যবসা এবং রিকভারিতে নজর না দিয়ে সকল শাখা ব্যবস্থাপককে ব্যস্ত রেখেছিলেন দশ টাকার একাউন্ট খোলার কাজে। যেসকল একাউন্ট ওই সময় খোলা হয়েছিল তার ৯৯% একাউন্ট বর্তমানে ডরমেন্ট অবস্থায় আছে। গত বছরের ওই কাজে ব্যাংকের এক টাকাও লাভ তো হয়নি উল্টো ব্যাংকের লাখ লাখ টাকা ক্যাম্পেইনের নামে হরিলুট হয়েছে। একইভাবে এ বছরও শাখা ব্যবস্থাপকরা যাতে রিকভারিতে বেশি সময় না দিতে পারে সেজন্য তাদের ঠুনকো কাজে ব্যস্ত রাখছেন বর্তমান কুচক্রী এমডি।
শাখা ব্যবস্থাপকদের সাথে এসব বিষয়ে আলাপ করতে যেয়ে আরও একটি চমকপ্রদ জালিয়াতির তথ্য আসে এই প্রতিবেদকের কাছে। বর্তমান এমডি এবং তার সিন্ডিকেট এই ব্যাংকে চালু করেছেন এক অভিনব স্ট্যাম্প জালিয়াতির ব্যবসা। ব্যাংকের শাখা গুলোতে যে সকল এডহেসিভ স্ট্যাম্প এবং রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহৃত হয় তার প্রায় ৯০% ই জাল স্ট্যাম্প এবং এ সকল স্ট্যাম্প জাল জেনেও শাখা ব্যবস্থাপকেরা এমডি সিন্ডিকেটের রেফারেন্সের ভেন্ডর থেকে নিতে বাধ্য হন। কোন কোন শাখা ব্যবস্থাপক জানান এই খাতে এমডি সিন্ডিকেটের বছরে আয় হয় প্রায় ১০ কোটি টাকার উপরে। যেখানে ম্যানেজাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি অথবা সোনালী ব্যাংক থেকে এবং পোস্ট অফিস থেকে কোটি টাকার চালান করে স্ট্যাম্প কিনলে এক টাকাও কমিশন দেয় না সেখানে ওই সকল ভেন্ডর রা ৫০% থেকে ৬০% কমিশন দেন কিভাবে? প্রশ্ন তোলেন এক ম্যানেজার এই প্রতিবেদকের কাছে।
এনআরবিসি ব্যাংক পরিচালনার করুন চিত্র নিম্নরুপঃ
বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকদের সহায়তায় এনআরবিসি ব্যাংককে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে চলেছেন অবিরামভাবে। ব্যাংকের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যতিরেকে তাদের একমাত্র চিন্তা ও লক্ষ্য হল কিভাবে তারা এনআরবিসি ব্যাংকে আরও দুই বছর ক্ষমতা ধরে রেখে নিজেদের ভোগ বিলাস ও স্বার্থ হাসিল করতে পারেন। আর এই ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য পরিচালকরা মিলে একের পর এক নিয়োগ দিয়েছেন পছন্দ মত অযোগ্য সব কর্তা ব্যক্তিদের। যারা অন্য ব্যাংকে চাকরিচ্যুত ছিলেন লম্বা সময়। মজার ব্যাপার হল এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ও নিয়োগ বাণিজ্য এর দর কষাকষি চলে সবসময়। এই নিয়োগ বাণিজ্য চালাচ্ছেন এনআরবিসি ব্যাংক এর এমডি তৌহিদুল আলম খান ও চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া। তারই ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক অকর্ম কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন।
বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকদের সহায়তায় এনআরবিসি ব্যাংককে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে চলেছেন অবিরামভাবে। ব্যাংকের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ব্যতিরেকে তাদের একমাত্র চিন্তা ও লক্ষ্য হল কিভাবে তারা এনআরবিসি ব্যাংকে আরও দুই বছর ক্ষমতা ধরে রেখে নিজেদের ভোগ বিলাস ও স্বার্থ হাসিল করতে পারেন। আর এই ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য পরিচালকরা মিলে একের পর এক নিয়োগ দিয়েছেন পছন্দ মত অযোগ্য সব কর্তা ব্যক্তিদের। যারা অন্য ব্যাংকে চাকরিচ্যুত ছিলেন লম্বা সময়। মজার ব্যাপার হল এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ও নিয়োগ বাণিজ্য এর দর কষাকষি চলে সবসময়। এই নিয়োগ বাণিজ্য চালাচ্ছেন এনআরবিসি ব্যাংক এর এমডি তৌহিদুল আলম খান ও চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া। তারই ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত প্রায় চার শতাধিক অকর্ম কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন।
তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিম্নরুপঃ
১। নাম তৌহিদুল আলম খান, পদবি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসিক বেতন ১০,০০,০০০ টাকা। পূর্বাবস্থা ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত এবং চেয়ারম্যান প্রধানিয়া এর পুরাতন কলিগ অগ্রণী ব্যাংকের।
২। আবদুল কাইয়ুম খান, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মাসিক বেতন ৬,৮০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর পুরাতন কলিগ ব্যাংক এশিয়ার। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
৩। মঈনুল ইসলাম, মানেজার প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৪,৭৫,০০০ টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে চাকরিচুত এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
৪। ফাহমিদা চৌধুরী, সিনিয়র হেড অফ ট্রেনিং ইন্সিটিউট, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৫,০০,০০০ টাকা। লম্বা সময় (৮ বছর) ঢাকা ব্যাংকে থাকা অবস্থায় বসে থাকা এবং উক্ত ব্যাংক থেকে চলে যাবার জন্য নির্দেশিত। ফাহমিদা হক চেয়ারম্যান প্রধানিয়া এর নিকটজন।
৫। ফয়সল আহমেদ, হেড অফ হিউম্যান রিসোর্স, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৪,৭৫,০০০ টাকা। সাউথবাংলা ব্যাংক থেকে নারী কেলেঙ্কারির দায়ে ব্যাংক থেকে চলে যাবার জন্য নির্দেশিত এবং ম্যানেজিং ডিরেক্ট তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
৬। তারিকুল ইসলাম খান, হেড অফ রিকভারি, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৩,৬৫,০০০ টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকে ১,৮০,০০০ টাকা বেতন পেতেন। ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে চলে যাবার জন্য নির্দেশিত এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
৭। রাসেদুল ইসলাম, সি এফ ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৩,৬৫,০০০ টাকা। সাউথ ইস্ট ব্যাংক থেকে চলে যাবার জন্য নির্দেশিত এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
৮। তারেক নাওয়াজ, চীফ অফিসার, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৩,১০,০০০ টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত এ ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
১। নাম তৌহিদুল আলম খান, পদবি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাসিক বেতন ১০,০০,০০০ টাকা। পূর্বাবস্থা ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত এবং চেয়ারম্যান প্রধানিয়া এর পুরাতন কলিগ অগ্রণী ব্যাংকের।
২। আবদুল কাইয়ুম খান, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, মাসিক বেতন ৬,৮০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর পুরাতন কলিগ ব্যাংক এশিয়ার। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
৩। মঈনুল ইসলাম, মানেজার প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চ, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৪,৭৫,০০০ টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে চাকরিচুত এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
৪। ফাহমিদা চৌধুরী, সিনিয়র হেড অফ ট্রেনিং ইন্সিটিউট, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৫,০০,০০০ টাকা। লম্বা সময় (৮ বছর) ঢাকা ব্যাংকে থাকা অবস্থায় বসে থাকা এবং উক্ত ব্যাংক থেকে চলে যাবার জন্য নির্দেশিত। ফাহমিদা হক চেয়ারম্যান প্রধানিয়া এর নিকটজন।
৫। ফয়সল আহমেদ, হেড অফ হিউম্যান রিসোর্স, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৪,৭৫,০০০ টাকা। সাউথবাংলা ব্যাংক থেকে নারী কেলেঙ্কারির দায়ে ব্যাংক থেকে চলে যাবার জন্য নির্দেশিত এবং ম্যানেজিং ডিরেক্ট তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
৬। তারিকুল ইসলাম খান, হেড অফ রিকভারি, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৩,৬৫,০০০ টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংকে ১,৮০,০০০ টাকা বেতন পেতেন। ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে চলে যাবার জন্য নির্দেশিত এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
৭। রাসেদুল ইসলাম, সি এফ ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৩,৬৫,০০০ টাকা। সাউথ ইস্ট ব্যাংক থেকে চলে যাবার জন্য নির্দেশিত এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
৮। তারেক নাওয়াজ, চীফ অফিসার, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৩,১০,০০০ টাকা। ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত এ ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
৯। তোফাজ্জল হোসেন, হেড অফ সিএডি, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ২,৮০,০০০ টাকা। এসআইবিএল থেকে বেতন না হবার কারনে টাকার বিনিময় চলে আসেন। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন।
১০। আরমান হোসেন, যেড অফ ক্রেডিট কার্ড। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ৩,৫০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
১১। আক্তারুজ্জামান, ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ২,৫০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
১২। মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ২,৪৫,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
১৩। মনির হোসেন খন্দকার, এসিসট্যানট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ২,০০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
১৪। ওয়ালিউজ্জামান খান, এসিসট্যানট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ১,৯০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
১৫। আব্দুল হাকিম, এসিসট্যানট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ১,৭০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
১৬। সোহেল রানা, এসিসট্যানট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ১,৭০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
১১। আক্তারুজ্জামান, ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ২,৫০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
১২। মোহাম্মদ বদরুজ্জামান, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ২,৪৫,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
১৩। মনির হোসেন খন্দকার, এসিসট্যানট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ২,০০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
১৪। ওয়ালিউজ্জামান খান, এসিসট্যানট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ১,৯০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
১৫। আব্দুল হাকিম, এসিসট্যানট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ১,৭০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
১৬। সোহেল রানা, এসিসট্যানট ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাসিক বেতন ১,৭০,০০০ টাকা। ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর সাথে আতাত ও রফাদফা করেন চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়া এর মদদে।
একইভাবে, প্রায় চার শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে একদিকে যেমন নিজেদের খেয়াল খুশি মত ব্যাংকের থেকে সুবিধা নিচ্ছেন অপরদিকে পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের অমানবিক নির্যাতন ও হয়রানি করছেন।
এখানে উল্লেখ্য যে, পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাবে অপদস্ত করতে ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান নিজে নিয়োজিত থাকেন এবং তাকে পূর্ণ সমর্থন দেন ফয়সল আহমেদ, হেড অফ হিউম্যান রিসোর্স এবং তারেক নাওয়াজ, চীফ লিগাল অফিসার।
পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের তথ্যমতে, এই তিনজন দিনের বেশিরভাগ সময় ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খানের রুমে ব্যস্ত থাকেন শুধুমাত্র নতুন কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য এবং পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের হয়রানির জন্য। এমনকি, কোন পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভাল চাকুরির অফার পাবার পর পদত্যাগ পত্র জমা দিলে তা নিয়ে নানান টাল বাহানা করে মনগড়া অডিট এবং মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ এনে কাউকেই কোন ছাড়পত্র দেয়া হয় না। ফলে, পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীরা না পারছেন ঠিক মত কাজ করতে আবার না পারছেন ব্যাংক ছেড়ে চলে যেতে।
এখানে উল্লেখ্য যে, পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাবে অপদস্ত করতে ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান নিজে নিয়োজিত থাকেন এবং তাকে পূর্ণ সমর্থন দেন ফয়সল আহমেদ, হেড অফ হিউম্যান রিসোর্স এবং তারেক নাওয়াজ, চীফ লিগাল অফিসার।
পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের তথ্যমতে, এই তিনজন দিনের বেশিরভাগ সময় ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খানের রুমে ব্যস্ত থাকেন শুধুমাত্র নতুন কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য এবং পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের হয়রানির জন্য। এমনকি, কোন পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভাল চাকুরির অফার পাবার পর পদত্যাগ পত্র জমা দিলে তা নিয়ে নানান টাল বাহানা করে মনগড়া অডিট এবং মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ এনে কাউকেই কোন ছাড়পত্র দেয়া হয় না। ফলে, পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীরা না পারছেন ঠিক মত কাজ করতে আবার না পারছেন ব্যাংক ছেড়ে চলে যেতে।
অপরদিকে, পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের সকলকে বিভিন্ন জায়গায় বদলী ও পদায়ন করে বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিচ্ছেন বছরের পর বছর। উদাহরন স্বরূপ, এনআরবিসি ঢাকা উত্তরা জোনের দিকে তাকালেই পুরো ব্যাংকের চিত্র বুঝা যায়। এক ঢাকা উত্তরা জোনই সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র এসিসট্যানট ভাইস প্রেসিডেন্ট, এসিসট্যানট ভাইস প্রেসিডেন্ট হতে শুরু করে বিভিন্ন বড় বড় পদের কর্মকর্তা কর্মচারীরা কাজ বিহীন সময় পার করছেন। একই চিত্র, এনআরবিসি ঢাকা দক্ষিণ জোনের এবং অন্যান্য সকল জোনের।
এনআরবিসি জোনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, হেড অফিস থেকে ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এবং তার অনুসারী ফাহমিদা চৌধুরী, হেড অফ ট্রেনিং ইন্সিটিউট, তারিকুল ইসলাম খান, হেড অফ রিকভারি, রাসেদুল ইসলাম, সি এফ ও, তোফাজ্জল হোসেন, হেড অফ সি এ ডি আরমান হোসেন, হেড অফ ক্রেডিট কার্ড, আক্তারুজ্জামান, মুহাম্মদ বদরুজ্জামান প্রমুখ বড় নাম ও পদবীধারী কর্তা ব্যক্তিরা ব্যবসা সংক্রান্ত কোন গাইডলাইন দেন না এমনকি কোন লোন প্রস্তাব বা রিশিডিউল পাস করেন না। যে কারনে এনআরবিসি ব্যাংক এখন প্রায় মুখ থুবরে পড়ছে প্রতিনিয়ত।
উপরন্ত, পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীরা সারাক্ষণ ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলা এবং অভিযোগের ভয়ে নিদারুন মানসিক চাপে চরম নির্যাতনের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন। এমনই একটি প্রমান ফাইনাঞ্চ ডিভিসনের জনাব শাহরিয়ার, তিনি গত এক মাস আগে চরমভাবে রাস্তায় এক্সিডেন্ট হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ব্রেইন এ রক্তক্ষরণের কারনে মাথার খুলির অপারেশন করতে বাধ্য হন। এখন তিনি সুস্থ হয়ে কাজে যোগদান করতে পারেন নাই।
জানা যায়, এই ঘটনার একদিন আগে ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান, ফাইনাঞ্চ ডিভিসনের জনাব শাহরিয়ারকে চরম ভাবে গালমন্দ করেন ও চাকরীচ্যুত করার হুমকি দেন কারন তিনি ব্যাংকের পুরাতন কর্মকর্তা। এই সকল কিছুর পেছনে বর্তমান চেয়ারম্যান আলী হোসেন প্রধানিয়ার আছে পূর্ণ সমর্থন ও কূটবুদ্ধি। এমনকি অন্যান্য পরিচালকরা ও বিশেষ করে আবুল বশার এবং ব্যারিস্টার সফিক নানা রকম পরিকল্পনা দেন।
বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকদের সহায়তায় এনআরবিসি ব্যাংক কেমন চলছে তার কিছু তথ্য বা চিত্র নিম্নরূপঃ
বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকদের সহায়তায় এনআরবিসি ব্যাংক কেমন চলছে তার কিছু তথ্য বা চিত্র নিম্নরূপঃ
১। কেপিএমজি দ্বারা পরিচালিত ফরেনসিক অডিটকে পুজিকরে মিথ্যা ও বানোয়াট সমস্যা বানিয়ে পুরাতন কর্মকর্তা কর্মচারীরদের কাজ করতে না দেয়া এবং অমানবিক কষ্টে রাখেন সবসময়। এই ব্যাপারে অডিট ডিভিশনের জনাব তালাবুল ম্যানেজিং ডিরেক্টর তৌহিদুল আলম খান এর খয়ের যা এর মত কাজ করে চলেছেন।
২। একই সঙ্গে কেপিএম জি দ্বারা পরিচালিত ফরেনসিক অডিটকে পুজিকরে মিথ্যা ও বানোয়াট খবর প্রচার করে এনআরবিসি ব্যাংক তথা সম্পূর্ণ ব্যাংকিং খাতকে অশান্ত করে নিজেরা আরো লম্বা সময় এনআরবিসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকার কুট পরিকল্পনা করে চলছেন।
২। একই সঙ্গে কেপিএম জি দ্বারা পরিচালিত ফরেনসিক অডিটকে পুজিকরে মিথ্যা ও বানোয়াট খবর প্রচার করে এনআরবিসি ব্যাংক তথা সম্পূর্ণ ব্যাংকিং খাতকে অশান্ত করে নিজেরা আরো লম্বা সময় এনআরবিসি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে থাকার কুট পরিকল্পনা করে চলছেন।
৩। গত কুরবানি ইদের বোনাস দিতে হয়েছে সাসপেন্স ডেবিট করে। যাহা প্রমান করে দুই বছর আগের একটি শক্তিশালী ব্যাংক কত নাজুক অবস্থায় পড়েছে।
৪। প্রতি মাসে শুধুমাত্র বেতন বাবদ খরচ দিতে হয় প্রায় ২৫ থেকে ২৭ কোটি টাকা।
৫। অন্যান্য খরচ যেমন ভবন ভাড়া, অবকাঠামোগত খরচ ইত্যাদি সব মিলে প্রায় আরও খরচ দিতে হয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা।
৭। অপরদিকে মাসিক লাভ বা প্রফিট গরপরতায় মাত্র ১৫ কোটি টাকা। যেখানে এই ব্যাংকটিরই মাসিক লাভ বা প্রফিট গরপরতায় ছিল প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ কোটি টাকা।
৮। ডেফারেল সুবিধা নিয়ে এনআরবিসি ব্যাংক টিকে প্রফিটে বা লাভ দেখানো বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকদের একটি শুভঙ্করের ফাকি মাত্র।
৯। পূর্বাচলে ৫০ শতাংশ জমি ব্যাংকের ক্রয় করা জমি। এক ডেভেলপারকে দিয়ে ডেভেলপ করানোর নামে আগাম বুকিং মানি নিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকদের আর একটি সুবিধা নেবার জন্য নতুন পায়তারা।
১০। আবুল বশার একজন কুটবুদ্ধি সম্পন্ন বর্তমান পরিচালক যিনি এনআরবিসি সিকিউরিটিস এর আবার চেয়ারম্যান তিনি ঘন ঘন মিটিং করে বোর্ড ফি এবং অন্যান্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন এন আর বি সি ব্যাংক ও এনআরবিসি সিকিউরিটিস উভয় জায়গা থেকে। যেখানে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ও রয়েছে বেশ কিছু ভাগ।
১১। এনআরবিসি ব্যাংকের ডিপোজিট কমে গিয়েছে প্রায় ৪০০০ হাজার কোটি টাকা। লোণ বাড়ছে না পূর্বের তুলনায়। এন পি এল বা খারাপ লোণ দাঁড়িয়েছে প্রায় % ২৫এ।
১২। যদি ও বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক উভয়য়েই একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন পুষ্ট ছিল কিন্তু বিগত সংসদ নির্বাচনের পরে এনআরবিসি ব্যাংকের বর্তমান পদে অধিষ্ঠিত থাকার জন্য ক্ষমতাশীল দলের প্রভাবশালী এমপি মন্ত্রীদের কে এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় করানোর মাধ্যমে পূর্বের শেয়ার হোল্ডারদের এনআরবিসি ব্যাংকে অন্তর্ভুক্ত করার পায়তারা করছেন। যদিও এই ব্যাপারে তেমন কোণ ইঙ্গিত পাওয়া না গেলেও বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক উভয়য়েই ক্ষমতাশীল দলের প্রভাবশালী এমপি মন্ত্রীদের বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে বশিভূত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে, একটি ভাল, সু প্রতিষ্ঠিত এবং শক্তিশালী ব্যাংককে সুশাসনের দোহাই দিয়ে কিভাবে নষ্ট করে ব্যাংকিং যাতে অরাজকতা এবং সরকারের ভাবমূর্তি খারাপ করা যায় তার চূড়ান্ত উদাহরন এনআরবিসি ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা এবং এর জন্য পুরপরি ভাবে দায়ী বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে বোর্ডের অন্যান্য পরিচালক যারা ব্যাংক পরিচালনার জন্য একেবারেই অভিজ্ঞ নয়।
এখানে উল্লেখ্য যে, বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে বোর্ডের অন্যান্য পরিচালক প্রত্যেকই ছিলেন চাকুরীজীবী মাত্র। এদের কাছে থেকে এর চেয়ে ভাল আর কিই বা আশা করা যায় কারন ব্যাংক টি তো আর তাদের না। এমন কি তারা কোন একটি টাকাও ব্যাংক গঠনে প্রদান করেন নি।
৪। প্রতি মাসে শুধুমাত্র বেতন বাবদ খরচ দিতে হয় প্রায় ২৫ থেকে ২৭ কোটি টাকা।
৫। অন্যান্য খরচ যেমন ভবন ভাড়া, অবকাঠামোগত খরচ ইত্যাদি সব মিলে প্রায় আরও খরচ দিতে হয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা।
৭। অপরদিকে মাসিক লাভ বা প্রফিট গরপরতায় মাত্র ১৫ কোটি টাকা। যেখানে এই ব্যাংকটিরই মাসিক লাভ বা প্রফিট গরপরতায় ছিল প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ কোটি টাকা।
৮। ডেফারেল সুবিধা নিয়ে এনআরবিসি ব্যাংক টিকে প্রফিটে বা লাভ দেখানো বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকদের একটি শুভঙ্করের ফাকি মাত্র।
৯। পূর্বাচলে ৫০ শতাংশ জমি ব্যাংকের ক্রয় করা জমি। এক ডেভেলপারকে দিয়ে ডেভেলপ করানোর নামে আগাম বুকিং মানি নিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে বোর্ডের অন্যান্য পরিচালকদের আর একটি সুবিধা নেবার জন্য নতুন পায়তারা।
১০। আবুল বশার একজন কুটবুদ্ধি সম্পন্ন বর্তমান পরিচালক যিনি এনআরবিসি সিকিউরিটিস এর আবার চেয়ারম্যান তিনি ঘন ঘন মিটিং করে বোর্ড ফি এবং অন্যান্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন এন আর বি সি ব্যাংক ও এনআরবিসি সিকিউরিটিস উভয় জায়গা থেকে। যেখানে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ও রয়েছে বেশ কিছু ভাগ।
১১। এনআরবিসি ব্যাংকের ডিপোজিট কমে গিয়েছে প্রায় ৪০০০ হাজার কোটি টাকা। লোণ বাড়ছে না পূর্বের তুলনায়। এন পি এল বা খারাপ লোণ দাঁড়িয়েছে প্রায় % ২৫এ।
১২। যদি ও বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক উভয়য়েই একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন পুষ্ট ছিল কিন্তু বিগত সংসদ নির্বাচনের পরে এনআরবিসি ব্যাংকের বর্তমান পদে অধিষ্ঠিত থাকার জন্য ক্ষমতাশীল দলের প্রভাবশালী এমপি মন্ত্রীদের কে এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় করানোর মাধ্যমে পূর্বের শেয়ার হোল্ডারদের এনআরবিসি ব্যাংকে অন্তর্ভুক্ত করার পায়তারা করছেন। যদিও এই ব্যাপারে তেমন কোণ ইঙ্গিত পাওয়া না গেলেও বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক উভয়য়েই ক্ষমতাশীল দলের প্রভাবশালী এমপি মন্ত্রীদের বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে বশিভূত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে, একটি ভাল, সু প্রতিষ্ঠিত এবং শক্তিশালী ব্যাংককে সুশাসনের দোহাই দিয়ে কিভাবে নষ্ট করে ব্যাংকিং যাতে অরাজকতা এবং সরকারের ভাবমূর্তি খারাপ করা যায় তার চূড়ান্ত উদাহরন এনআরবিসি ব্যাংকের বর্তমান অবস্থা এবং এর জন্য পুরপরি ভাবে দায়ী বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে বোর্ডের অন্যান্য পরিচালক যারা ব্যাংক পরিচালনার জন্য একেবারেই অভিজ্ঞ নয়।
এখানে উল্লেখ্য যে, বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিলে বোর্ডের অন্যান্য পরিচালক প্রত্যেকই ছিলেন চাকুরীজীবী মাত্র। এদের কাছে থেকে এর চেয়ে ভাল আর কিই বা আশা করা যায় কারন ব্যাংক টি তো আর তাদের না। এমন কি তারা কোন একটি টাকাও ব্যাংক গঠনে প্রদান করেন নি।