আনোয়ার ইব্রাহিম ও তারেক রহমানের একান্ত বৈঠক থেকে যে বার্তা এলো

আপলোড সময় : ২২-০৬-২০২৬ ১২:১১:৪৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৬-২০২৬ ১২:১১:৪৮ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে আগেই আভাস মিলেছিল, শ্রমবাজার নিয়ে তাৎক্ষণিক বড় কোনো ঘোষণা আসবে না। ফলাফলও তেমনই। শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা এবং শ্রমিকদের হয়রানি-নির্যাতনের ইস্যুতে দুই প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে আলোচনা করেছেন এবং ঐকমত্যে পৌঁছেছেন, যা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারটিতে ভবিষ্যতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়। অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ।

 

আজ সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পারদানা পুত্রা’য় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বার্তা আসে। এর আগে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

সফররত প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, আমাদের অতিথি হওয়ার জন্য এবং এত বড় একটি প্রতিনিধিদল সঙ্গে নিয়ে আসার জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ। আপনি অত্যন্ত আন্তরিক এবং সহযোগিতাপূর্ণ ছিলেন। আমি আশা করি, আমাদের এই পারিবারিক বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

 

অন্যদিকে তারেক রহমান বলেন, আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আজকের এই আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমান সকালে পারদানা পুত্রায় পৌঁছালে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর প্রথমে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন দুই নেতা। পরে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

 

পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।

 

আমরা একমত হয়েছি যে, শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।’

 

আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, তার (তারেক রহমানের) অকপটতা এবং আমাদের অভিন্ন সংকল্পের প্রতি তার প্রতিশ্রুতিকে আমি সাধুবাদ জানাই। হ্যাঁ, আমাদের কর্মী প্রয়োজন এবং তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের কর্মী ও তাদের পরিবারের কল্যাণ।

 

কর্মীদের অবিরাম শোষণ, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং নিছক ব্যক্তিগত বা কোম্পানির লাভের জন্য তাদের ব্যবহার করা কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। ব্যক্তিগতভাবে এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও তিনি যে মনোভাব ব্যক্ত করেছেন, আমি তার আন্তরিক প্রশংসা করি।’

 

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের শোষণ ও নিপীড়নের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বাড়াবাড়ি বন্ধ করতে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি যাতে স্বচ্ছ হয় তা নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই নেতৃত্ব দিতে হবে। এটি উভয় দেশের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে, তবে অবশ্যই এসব কর্মী ও তাঁদের পরিবারের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।


 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]