পুকুর নয় যেন সোনার খনি: ত্রিশালে কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে বিতর্ক

আপলোড সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ০১:৩১:২৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৬-২০২৬ ০১:৩৫:২৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুকুর ও মসজিদের জায়গা ভরাটে ব্যবহার করা হয়েছে। সাবেক ইউএনও জুয়েল স্যার এ কাজের কোনো টেন্ডার দেননি। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ইউএনওর কাজ হওয়ায় টেন্ডারের প্রয়োজন নেই। বিলের বিষয়ে জানতে একাধিকবার তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।বিল পরিশোধ না হওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”


এআই প্রযুক্তি-সংক্রান্ত কাজের ঠিকাদার হেদায়েত উল্লাহ ফুরাত বলেন, “সাবেক ইউএনও জুয়েল আহমেদ আমাকে ডেকে এআই প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষ প্রকল্পের শেডঘর নির্মাণ, স্যানিটারি, বৈদ্যুতিক কাজ এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহের দায়িত্ব দেন। এসব কাজ কোনো টেন্ডার ছাড়াই আমাকে দেওয়া হয়েছিল। আমি প্রায় ১৩ লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন করি। সাবেক ইউএনও বদলি হয়ে চলে যাওয়ার পর অনেক ঘোরাঘুরির পর পরবর্তী ইউএনও বাকীউল বারী স্যার আমাকে ৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকার একটি বিল পরিশোধ করেন। তবে এখনও প্রায় ৫ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।

এ বিষয়ে বর্তমান ইউএনও আরফাত সিদ্দিকী স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আগের ইউএনও চলে গেছেন, এখন আমি কী করব?’ এ কাজের বিষয়ে এসিল্যান্ড মাহবুবুর রহমান এবং পৌর প্রকৌশলী প্রদীপ কুমারও অবগত আছেন।”

বিশ্বাস ফিশ ফিডের ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন বলেন, এটি একটি গবেষণামূলক প্রকল্প ছিল। তাদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মাছ ও মাছের খাবার সরবরাহ করা হয়েছিল এবং মাছ বিক্রির অর্থ তারা গ্রহণ করবে। পুকুরটি উপজেলা প্রশাসনের হলেও পুকুর ব্যবহারের বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলাদা কোনো চুক্তি ছিল না। তিনি দাবি করেন, প্রকল্পটিতে তার প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে মাছ বিক্রি করে তিনি মাত্র আড়াই লাখ টাকা পেয়েছেন। নতুন ইউএনও দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে ডেকে এনে আটক করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, পুকুরের পাশের সড়কের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সেটি মেরামতের জন্য তাকে চাপ দেওয়া হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে সড়কটি সংস্কার করার অঙ্গীকার করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বর্তমানে তিনি নিজ খরচে সড়ক মেরামতের কাজ করছেন এবং এ পর্যন্ত এ কাজে ৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে বলে জানান। স্থানীয়দের মতে, এ আই প্রযুক্তির মাছ চাষে পুকুর অতিরিক্ত গভীরভাবে খনন করায় পাশের পৌরসভার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের একটি অংশ পুকুরের দিকে হেলে পড়েছে। এই সুযোগে ইউএনও নতুন করে এই সড়কের গতিপথ পরিবর্তনে পায়তারা করছেন। এ নিয়ে এলাকার সাধারন মানুষ ফুসে উঠেছেন। তারা কোন ভাবেই পুরনো সড়ক পরিবর্তন করতে দিবেননা। তারা এলাকার মানুষদের জমায়েত করে বিক্ষোভ ও গনস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন। স্থানীয় ফারুক আহমেদ, আবু রায়হান বলেন, এই পুকুর ঘিরে নতুন নতুন ইউএনও নানা প্রকল্প আনেও। আমরা ছোট বেলা এই পুকুরে সাতার কাটতাম এখন কি মাছ চাষ করে তা বন্ধ করেছে। সড়ক নতুন করে পাকা হলেও পুকুর খনন করায় সড়ক হেলে পড়েছে এতে ইউএনওর মজা হয়েছে। নতুন প্রকল্প এনে খরচ করবে। পৌরসভার কত সড়ক আছে হেটে চলা যায়না তা সংস্কার করেনা। এই পুকুরে কি দেখেছে এখানে সরকারী অর্থের অপচয় করে। স্থানীয় জাবাদুল হক খান বলেন, এই পুকুর যেন সোনার হরিন। গত ইউএনও মাছ চাষ প্রকল্প দেখিয়ে এক কোটি টাকার উপরে খরচ করেছে। কোন ফায়দা হয়নি। এইটা আরও আমাদের জন্য দুভোর্গ হয়েছে। খনন করার ফলেই হেলে পড়েছে, প্রয়োজন ছিল না খননের। এখানে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন প্রকল্প দ্বারা সরকারি অর্থ খরচ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে ইউএনওর বাসায় কিছু কাজ হয়েছে। কয়েক লক্ষ টাকার কাজ হয়েছে, যেগুলোর না-কি কোনো টেন্ডারই নাই। এখন শুনতেছি ওইগুলোর টেন্ডার হবে। কাজ হওয়ার পর টেন্ডার হয় কিভাবে? আমি বলবো, এই সড়ক যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়।"


ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি স্থানীয় বাসিন্দা ফয়েজ উদ্দিন সরকার বলেন, "এ রাস্তা বন্ধ কইরা দিয়া কেইল্লেগ্যা আরেকটা রাস্তা করুইন লাগে, কেইল্যাগ্যা সরকারি টেহা অপচয় করুইন লাগে? রাস্তা সংলগ্ন দীঘি খনন কইরা অর্থ আত্মসাৎ করছে। পৌরসভার কত রাস্তা আছে মানুষ আটতে পারেনা ওই গুলা ঠিক করতে পারেনা।" উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকি বলেন, “পুকুরটি আমার সরকারি বাসভবনের পাশে হওয়ায় বিষয়টি আমার নজরে আসে। জানা যায়, ২০২৪ সালে সাবেক ইউএনও সারাদেশে মডেল হিসেবে এআই পদ্ধতিতে এ পুকুরে মাছ চাষ প্রকল্প শুরু করেছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর একদিন আমি লক্ষ্য করি, পুকুরে মাছ, পানি কিংবা প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কোনো যন্ত্রপাতি নেই। এগুলো কে বা কারা সরিয়ে নিয়েছে, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। মাছ চাষ প্রকল্পের আওতায় পুকুরটি গভীরভাবে খনন করায় পাশের সড়কের নিচের মাটি সরে গিয়ে রাস্তা হেলে পড়ে।

এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস ফিডকে ডেকে এনে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়। আমি আসার পর এ পুকুরের জন্য উপজেলা পরিষদ থেকে কোনো বরাদ্দ গ্রহণ করিনি।” তিনি আরও বলেন, “আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সড়কটির পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ভারী যানবাহন ও দ্রুতগতির গাড়ি চলাচলের কারণে সেখানে নানা সমস্যা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এছাড়া সড়কটির পাশে উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবন অবস্থিত থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব কারণেই সড়কটির নকশা ও চলাচল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।”

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]