সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্ত বর্তী বি-বাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী খান্দুরা উত্তর হাবেলী মজ্জুব পীর তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ রফিকুল হুসাইন প্রকাশ রফিক মিয়া এর চেহলামে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শান্তি পূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের উৎসবের মধ্য দিয়ে সোমবার (১৫ জুন) ভোর সকাল থেকে দিন ব্যাপী মরহুমের বড় সন্তান পীরে তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ মজিবুল হুসাইন লিটন, ছোট সন্তান পীরে তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ আশরাফুল হুসাইন জনি ও কন্যা সন্তানের জামাতা মুড়ারবন্দ ১২০ আউলিয়া দরবার শরীফের মোতাওয়াল্লী পীরজাদা আলহাজ্ব সৈয়দ সফিক আহমেদ চিশতী সফি সমন্বয়ে আয়োজনে মরহুমের নিজ বাড়িতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, অধ্যক্ষ, শিক্ষক, মসজিদের পেশ ইমাম, মোয়াজ্জেম সহ পরিবারের লোকজন নিয়ে মরহুমের আত্মার মাগফিরাতের কামনায় কোরআন খতম, খতমে সহীহ বুখারী শরীফ পড়ে এবং শেষে মরহুম সহ পরিবারের সকলের মাজার শরিফে শায়িত মুর্দা দের জিয়ারত করা হয়। পরে মরহুম মজ্জুব পীর তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ রফিকুল হুসাইন রফিক মিয়া কর্মজীবন আলোচনা শেষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ চেহলাম ও দোয়া মাহফিল উপলক্ষ্যে আত্মীয় স্বজন, বিভিন্ন পেশার মানুষ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, মুহাদ্দিস, মুনাসির, মুফতি ওলামা - মা শায়েখ , এলাকার নারী-পুরুষ, হবিগঞ্জ ও বি-বাড়িয়া জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্ত - বৃন্দ মুরিদান সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আশেকান ভক্ত - মুরিদান, অসহায় হতদরিদ্র, ফকির -মিসকিনরা উপস্থিত ছিলেন। তাবারক আয়োজন করা হয় প্রায় ১৫ হাজার লোকের।
উল্লেখ্য, খান্দুরা উত্তর হাবেলী মজ্জুপ পীরে তরিকত মরহুম আলহাজ্ব সৈয়দ মাইজুল হুসাইন প্রকাশ উন্দা মিয়া ও মরহুমা সৈয়দা আঁকিকুনন্নেছা এর সন্তান মজ্জুব পীর তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ রফিকুল হুসাইন রফিক মিয়া ১৯৩৪ খ্রীষ্টাব্দে খান্দুরা হাবেলীতে জন্ম গ্রহণ করেন এবং তার বংশক্রমে আল্লাহর পীর দরবেশ ও ওলি-আউলিয়া ছিলেন। তাদের দেশ-বিদেশে লক্ষাধিক আশেকান ভক্ত - মুরিদান রয়েছে। রফিক মিয়া সাধারণ ভাবে জীবন যাপন করতেন। তিনি কর্মজীবনে সর্ব প্রথম হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পৈইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ছিলেন। পরে তিনি ১৯৯২ সালে সিলেট রামেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পর অবসরপ্রাপ্ত হন। তবে পূর্বে বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য নিজ বাড়িতে এসে দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক আশে কান ভক্ত মুরিদান প্রতি নজর দিয়ে যাচ্ছেন। যেকোনো সমস্যা ভক্ত - মুরিদান প্রতি যোগাযোগ করতেন। তবে তিনি ব্যক্তিগত জীবনে চাচাতো বোন সৈয়দা হোসনে আরা কে বিয়ে করে জীবন যাপন করেন। সাংসারিক জীবনে তিনি ৩ ছেলে ৫ মেয়ের জনক ছিলেন। শেষ পর্যায়ে তিনি প্রথম ছেলে আলহাজ্ব সৈয়দ মজিবুল হুসাইন লিটন, দ্বিতীয় ছেলে আলহাজ্ব সৈয়দ আশরাফুল হুসাইন জনি খলিফা দায়ভার তুলে দেন। তাদের ও দেশ-বিদেশে হাজার হাজার আশেকান ভক্ত - মুরিদান করে আছে। প্রতি দিন শতশত নারী-পুরুষ পীরে তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ মজিবুল হুসাইন লিটন ও পীরে তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ আশরাফুল হুসাইন জনি কাছে মানুষের বিভিন্ন সমস্যা মুক্ত হওয়ার জন্য যাচ্ছে এবং অনেকেই ফলাফল ভালো হচ্ছে বলে শুনা যায়। রফিক মিয়া তৃতীয় ছেলে সৈয়দ তালা বুল হুসাইন প্রকাশ আজমান মিয়া পাঠ্যবস্থায় মৃত্যু বরণ করে। বড় মেয়ে সৈয়দা সালোয়ারা ডলি বিবাহ বন্ধন হয় হবিগঞ্জ শহরে রাজনগর এলাকার লন্ডন প্রবাসী মোঃ নূরুল হক চৌধুরী কাছে, দ্বিতীয় মেয়ে সৈয়দা সালেহ শিউলি বিবাহ বন্ধন হয় মৌলভীবাজার জেলার বালিকান্দি সাহেব বাড়ির সৈয়দ মোসাইন আলী কাছে, তৃতীয় মেয়ে সৈয়দা সায়েদা হেপি বিবাহ বন্ধন হয় সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার রামদা গ্রামে মঈনুল আহমেদ কাছে, চতুর্থ মেয়ে সৈয়দা ফাতেমাতুজ জোহরা বিবাহ বন্ধন হয় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ঐতিহাসিক মুড়ার বন্দ ১২০ আউলিয়া দরবার শরীফের মোতাওয়াল্লী পীরজাদা আলহাজ্ব সৈয়দ সফিক আহমেদ চিশতী সফি কাছে , পঞ্চম মেয়ে সৈয়দা সালমা শিল্পী বিবাহ বন্ধন হয় মৌলভীবাজার জেলার রাদ গাও ফকির বাড়ির যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শাহ মোহাম্মদ জুনাইদ এর কাছে। এদিকে মজ্জুব পীর তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ রফিকুল হুসাইন রফিক মিয়া গত ৯ মে (শনিবার) রাত সাড়ে ১১ টা সময় নিজ বাড়িতে প্রায় ৯২ বছরে বয়সে বার্ধ্যক জনিত মৃত্যু বরণ করেন।