প্রযুক্তি দিয়ে জীবন বাঁচানোর লড়াই: জাককানইবি শিক্ষার্থীদের ‘ব্লাডরিচ’

আপলোড সময় : ১১-০৬-২০২৬ ০৪:৫৩:৫৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৬-২০২৬ ০৪:৫৮:০০ অপরাহ্ন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

সৌরভ আহমেদ সাগর জরুরি মুহূর্তে রক্তের অভাব মেটাতে এবং রক্তদাতার খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ানো মানুষের কষ্ট লাঘব করতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) তিন শিক্ষার্থী।

প্রযুক্তির সহায়তায় রক্তদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সেতু হিসেবে তাঁরা তৈরি করেছেন ‘ব্লাডরিচ’ (BloodReach) নামের একটি আধুনিক ওয়েব অ্যাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিন ইসলাম, ফারহানা আক্তার ইশা এবং মো. তৌফিক হোসেন শিমুল, এই তিন তরুণের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টার ফল এই প্ল্যাটফর্ম। গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্লাডরিচ ওয়েব অ্যাপটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৭ জন স্বেচ্ছাসেবী তরুণ এই পুরো প্ল্যাটফর্মটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। উদ্যোগটির পেছনের গল্প জানতে চাইলে জানা যায়, ব্লাডরিচ-এর প্রতিষ্ঠাতা মো. ইয়াসিন ইসলাম নিজে কলেজ জীবন থেকেই একজন নিয়মিত রক্তদাতা।

স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তিনি লক্ষ্য করেন, ফেসবুকে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য ব্লাড ডোনেশন গ্রুপ থাকলেও সংকটের সময়ে অনেক সময়ই দ্রুত রেসপন্স পাওয়া যায় না। এই সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজতে গিয়েই জন্ম নেয় ব্লাডরিচ-এর আইডিয়া। শুরুটা হয়েছিল খুবই সাদামাটাভাবে, একটি গুগল শিটে ডোনারদের ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে।

এরপর ২৫ সালের ২১ অক্টোবর চালু হয় এর ফেসবুক পেজ। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সম্মানিত শিক্ষকের দিকনির্দেশনা ও পরম উৎসাহে, নিজেদের পকেটের টাকা বাঁচিয়ে তৈরি হয় সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে ওঠা এই আধুনিক ওয়েব অ্যাপ। কোনো রকম

মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই রক্তগ্রহীতা যেন সরাসরি রক্তদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এই অ্যাপের মূল লক্ষ্য। ব্লাড গ্রুপ ও লোকেশন (Location) অনুযায়ী চোখের পলকে রক্তদাতা খুঁজে বের করা সম্ভব। অ্যাপ থেকেই ডোনারের মোবাইল নম্বর অথবা হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp) মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়। একজন রক্তদাতা একবার রক্তদানের পর তাঁর প্রোফাইলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৪ মাসের জন্য হাইড বা লুকিয়ে ফেলা হয়। ফলে ওই সময়ে কেউ তাঁকে কল দিয়ে বিরক্ত করতে পারবে না। সময় শেষ হলে প্রোফাইলটি আবার সচল হবে। গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সহজেই ওয়ান-ক্লিক রেজিস্ট্রেশন এবং ইমার্জেন্সি ব্লাড রিকোয়েস্ট পোস্ট করার সুবিধা রয়েছে এতে। উদ্যোক্তারা জানান, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা বড় কোনো আর্থিক বিনিয়োগ ছাড়াই এই সামাজিক উদ্যোগটি এগিয়ে চলছে। তাঁদের মূল লক্ষ্য ব্লাডরিচ-কে দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য রক্তসেবা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এই নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি একটি ডেডিকেটেড মোবাইল অ্যাপ তৈরি এবং দেশের প্রধান প্রধান হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ব্লাডরিচের সরাসরি সমন্বয় ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে মার্কেটিং বিভাগের এই তিন তরুণ স্বপ্নবাজের।

bloodreach.com এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ ও একটি গুগল অ্যাকাউন্ট থাকলেই যে কেউ এখন যুক্ত হতে পারবেন জীবন বাঁচানোর এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]