ঋণের টাকায় প্রিয় দলের রং এর আদলে গাড়ি রঙিন, উড়িয়েছেন পতাকা

আপলোড সময় : ১১-০৬-২০২৬ ০১:১০:৩৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১১-০৬-২০২৬ ০১:১৬:৩৩ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আব্দুল্লাহ আল নোমান ময়মনসিংহ ( ঈশ্বরগঞ্জ) প্রতিনিধি ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো কদিন বাকি । মাঠে গড়ায়নি ফুটবল। মাঠে ফুটবল না গড়ালেও থেমে থাকেনি নিজ -নিজ প্রিয় দল ,দেশ এবং খেলোয়াড় প্রতি সমর্থনের জানান দেওয়া। ইতিমধ্যে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনা।

ভক্তগন তারা তাদের প্রিয় দল বা খেলোয়াড় গনের প্রতি সমর্থন ও ভালোবাসার জানান দিতে পথে- প্রান্তে থেকে শুরু করে, মাঠে - ঘাটে,বাসা- বাড়ি কিংবা গাছের শীর্ষ প্রান্তে উড়িয়েছে পতাকা। চলছে খেলা দেখার নানান আয়োজন প্রস্তুতি। এসবের মাঝে প্রকাশ পেয়েছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভাধীন দত্তপাড়া ( এক নম্বর মোড়) গৃহায়ণ ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আ্জেন্টিনা ও মেসি প্রেমি ( ভ্যান চালক ) সুমন গৌড় ওরফে সুমন মেসির (৩৫) এর ব্যাতিক্রমি প্রচন্ড এক ভালোবাসার প্রকাশ ।

এ ভালোবাসা প্রকাশ করতে তিনি একটি এনজিও ঋণ থেকে নিয়েছেন সত্তর হাজার টাকা। ঋণের টাকায় তার প্রিয় দল ও খেলোয়াড়ের প্রতি প্রচন্ড আবেগ এবং ভালোবাসা প্রকাশ করতে তার উপার্জনের একমাত্র বাহন ভ্যান কে রাঙিয়েছেন আর্জেন্টিনার রং এর আদলে। সেই টাকায় কিনেছেন জার্সি টানিয়েছেন বড় আকৃতির অসংখ্য পতাকা তার সাথে মিলিয়ে বানিয়েছ লুঙ্গি। তার এ কান্ডে এলাকা জুড়ে যেমন ব্যাপক আলোচিত তেমনি ভাবে বিব্রত পরিবার। তার নাম সুমন গৌড় হলেও সুমন গৌড় নামে কেউ থাকে চিনে না । ছোট বেলা থেকেই আর্জেন্টিনা ও মেসি র প্রতি তার অগাধ এ ভালোবাসার কারণে এলাকাবাসী তার নাম রেখেছেন মেসি ফলে বর্তমানে এলাকায় মেসি সুমন নামেই সে পরিচিত । যে ডাকে সেও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমন ওরফে মেসি একজন দরিদ্র ভ্যান চালক ।

তার এক মেয়ে এক ছেলে এবং স্ত্রী কে নিয়ে চার সদস্যের পরিবার কে নিয়ে সরকারি ভাবে ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত গৃহায়ণ ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করে আসছেন। যার উপার্জনের একমাত্র বাহন ভ্যান গাড়ি,যা দিয়ে সে কোন মতে কষ্টে দিনানিপাত করেন। কয়েক বছর আগে তার বড় মেয়েকে বিয়ে দেয় । হত দরিদ্র অভাবের এ সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া সুমন গৌড়ের কিছুটা কষ্ট লাগব করতে তার বড় মেয়ের বাড়িতে নিয়ে নেন তার ছোট ছেলে কে । তারপরও এ কষ্টের মাঝেই তার পরিবার অপেক্ষা তার প্রিয় দল ও খেলোয়াড়গনের প্রতি আবেগময় ভালোবাসা প্রকাশ করতে আর্জেন্টিনার পতাকার আদলে , ভ্যানগাড়ি, জার্সি পোশাক পড়েন ।উড়ান পতাকা এ ব্যাপারে,মেসি সুমনের স্ত্রী আড়তী গৌড় বলেন,'খেলা আসলেই তিনি এমন পাগলামি শুরু করেন। শত বোঝিয়েও কোন লাভ হয়নি।

অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরালেও তিনি এসব ঋণের টাকায় করেছেন। এতে আমি পড়েছি বেকায়দায়, অনেক রাগও করেছি তার সাথে।কিন্তু কে শুনে কার কথা! আমার কপাল মন্দ,তাই এখন আর কিছু বলি না তাকে। জানতে চাইলে ভ্যান চালক মেসি ওরফে সুমন গৌড় বলেন,'ছোট বেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনা দলকে ভালোবাসি। আর্জেন্টিনা ও মেসির আমার আবেগ, আমার ভালোবাসা। আর্জেন্টিনার প্রতি সেই ভালোবাসার জায়গা থেকেই নিজের ভ্যান গাড়িটি আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে সাজিয়েছি। আমার এলাকায় এক নম্বর মোড়ে ২০ থেকে ২৫টির মতো বড় পতাকাও টানিয়েছি। যা করে আমি আনন্দিত হয় , তৃপ্তি অনুভব করি। কীভাবে এসব করেছেন এবং কত টাকা খরচ হয়েছে?

এমন প্রশ্নের জবাবে মেসি বলেন, একটি এনজিও থেকে লোন নিয়ে এসব করেছি। এতে আমার পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আপনার মতো মানুষ এতো টাকা খরচ করে এসব করার কি দরকার ছিল?

__এই প্রশ্নের উত্তরে মেসি জানান,'ভালোবাসা ও ভালোলাগাকে টাকা দিয়ে আমি মূল্যায়ন করিনি। বেচে থাকলে টাকা অনেক কামাই করতে পারবো। কিন্তু এই সময়টা হয়তো পরে আর না'ও পেতে পারি। তিনি আরও বলেন,যদি এবার আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ নিতে পারে তাহলে এলাকার সবাইকে বিরিয়ানি রান্না করে খাওয়াবো। মোস্তফা কামালসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন,'আর্জেন্টিনার প্রতি তার এমন ভালোবাসা অনেক আগে থেকেই। একজন মানুষের পছন্দের দল থাকতেই পারে,কিন্তু ঋণ করে এমন পাগলামি করা উচিত নয়।

আমরা তাকে অনেক বোঝিয়েছি, কিন্তু মেসিকে এসব থেকে কোনভাবেই থামানো যায়নি। এখন আমরাও আর কিছু বলি না। এসব করে যদি সে আত্মতৃপ্তি পায় এবং ঋণের বোঝা টানতে পারে তাহলে তো আমাদের কিছু করার নেই।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]