রাহাদ সুমন,বরিশাল প্রতিবেদক :
দুইজন মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের ওপর তিন দফায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলায় ছয় মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা এক নারীসহ ১১ জন আহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল জলিল চৌকিদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে বাবুগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের চর হোগলপাতিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছেন।
ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলী চৌকিদারের ছেলে ভ্যান চালক কবির হোসেন চৌকিদার অভিযোগ করে বলেন, তার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ভাগবাটোয়ার পর সৃষ্ট বিরোধের জেরধরে অপর দুইভাই আব্দুল জলিল চৌকিদার ও হুমায়ুন চৌকিদারসহ তাদের অন্যান্য সহযোগিরা গত ২৯ মে দিবাগত রাতে প্রথম দফায়, ৩০ মে সকালে দ্বিতীয় দফায় ও ৩১ মে দুপুরে পুলিশের উপস্থিতিতে তৃতীয় দফায় হামলা চালায়।
কবির হোসেন আরও জানিয়েছেন, তিনদফা হামলায় তার বসত ঘর ভাঙচুর করে লুটপাট করা হয়েছে। এছাড়াও হামলায় তার স্ত্রী মায়া বেগম, ছয়মাসের অন্তঃস্বত্ত্বা মেয়ে মিতু খানম, অপর মেয়ে শারমিন বেগম ও নিপা আক্তার। তিন মেয়ের জামাতা আশিক খান, কামাল হোসেন ও রিয়াজ মল্লিককে মারধর করে তাদের সাথে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ও মেয়ের ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া তৃতীয় দফার হামলায় তার (কবির) ছেলে মাহিম, বাড়িতে বেড়াতে আসা শ্যালক সাকোকাঠী গ্রামের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন খানের ছেলে জামাল খান, তার ছেলে শাহাদাত খানকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। হামলা ঠেকাতে প্রতিবেশী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আইয়ুব আলী মোল্লার মেয়ে শিল্পী বেগম বুলি এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা তাকেও মারধর করে আহত করেছে।
হামলায় গুরুত্বর আহতদের গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত কবির হোসেন চৌকিদার জানিয়েছেন, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বাবুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ করে কবির হোসেন বলেন, থানায় মামলা দায়েরের পর থেকে হামলাকারীরা তাকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন।
বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানিয়েছেন, মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।