স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ ও আশপাশের এলাকায় শেখ আব্দুল্লাহ রাসেল নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তার, অর্থ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দক্ষিণখানের একটি ধর্মীয় স্থাপনা “মসজিদে কোবা”-কে ঘিরে নাম পরিবর্তনের একটি ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, ওই সময় শেখ আব্দুল্লাহ রাসেল তার পারিবারিক পরিচয়ে দাদার নাম “মাওলানা নব্বী” ব্যবহার করে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এলে মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি শরীফ উদ্দিন জুয়েল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুনরায় পূর্বের নাম “মসজিদে কোবা” সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এছাড়া ফায়দাবাদ এলাকায় ওমন সিকদার ও তরিকুল ইসলামের একটি ভবন সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার সময় অর্থ দাবি করার অভিযোগও উঠেছে বলে স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিরোধ নিষ্পত্তির সময় প্রায় ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্বে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা রহমানের কাছ থেকে ময়লা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শেখ আব্দুল্লাহ রাসেলের প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এরপর থেকে মহল্লার মানুষকে বিভিন্ন সময় হুমকি, মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে এবং অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে তারা দাবি করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কৃষক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহর বাড়ির সামনে রাস্তা ও বাউন্ডারি নির্মাণকে কেন্দ্র করে একটি বিরোধের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই ঘটনার সময়ও শেখ আব্দুল্লাহ রাসেলের প্রভাব বা সমর্থনের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এদিকে থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল দক্ষিণখানের চৌধুরী মোড় এলাকায় একটি ঘটনায় প্রকাশ্যে অস্ত্র সদৃশ বস্তু প্রদর্শন, মারধর এবং হত্যার হুমকির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আজাহার ইসলাম অনিক নামের এক ব্যক্তি দক্ষিণখান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে এবং পরে একটি ভবনের ভেতরে নিয়ে গিয়ে এলাকা ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের দাবি, প্রকাশ্যে অস্ত্র সদৃশ বস্তু প্রদর্শনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দক্ষিণখান থানা যুবদলের পরিচয়ে কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, ফায়দাবাদ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, উত্থাপিত সব অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি কেউ যদি রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, অর্থ আদায় বা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
এ বিষয়ে শেখ আব্দুল্লাহ রাসেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।