আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এমপিওভুক্ত মাদরাসায় কর্মরত ১১৪ জন শিক্ষকের এমপিও (মাসিক বেতন-ভাতা) বাতিল করেছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এমপিও সুবিধা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি এতদিন সরকারি কোষাগার থেকে গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরত আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরিতে প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
গত ২৩ মে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের এমপিও শাখা থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। উপসচিব আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত ওই আদেশ রোববার (২৪ মে) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত করেছে যে এমপিওভুক্ত এসব মাদরাসার ১১৪ জন শিক্ষকের নিবন্ধন সনদ জাল। এনটিআরসিএর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬ এর ১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের এমপিও বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এমপিও বাতিল হওয়া শিক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬০ জন গাজীপুর জেলার, নরসিংদী জেলার ৩৯ জন এবং কুড়িগ্রাম জেলার ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। কুড়িগ্রামের তিনজন শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন— মোঃ হারুনুর রশিদ (সহকারী শিক্ষক, শরীর চর্চা), নেওয়াশী ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা; মোছা: জাহানারা খাতুন (জুনিয়র শিক্ষক, বাংলা ও ইংরেজি), সাপ খাওয়া দ্বি-মুখী দাখিল মাদরাসা; এবং মোঃ রাশেদুল ইসলাম (ক্বারি), খামার হাসনাবাদ ইসলামিয়া দ্বি-মুখী দাখিল মাদরাসা।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত এই আদেশ বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ আদায় ও আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সরকারের কঠোর অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।