কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালীগঞ্জে তাপস বিশ্বাস (২৪) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে তিনি তীব্র পেটব্যথায় ভুগছিলেন। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (১ জুন) সকালে উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের সাওরাইদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
নিহত তাপস বিশ্বাস ওই এলাকার গোপাল বিশ্বাসের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত-আট মাস আগে তাপস ব্রুনাই থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরে ৪ মাস আগে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার নৌকাঘাটা এলাকার অপর্ণা বিশ্বাসকে বিয়ে করেন। এখনো স্ত্রীর হাতের মেহেদির দাগ শুকায়নি। বিয়ের পর স্বাভাবিকভাবেই সংসার জীবন চলছিল তাদের।
নিহতের বাবা গোপাল বিশ্বাস জানান, গত শনিবার (৩১ মে) বিকেলে তাপস পরিবারের সদস্যদের জানান যে তার প্রচণ্ড পেটব্যথা হচ্ছে। পরে তিনি নিজেই সাওরাইদ বাজার থেকে ওষুধ কিনে সেবন করেন। কিন্তু তাতেও ব্যথা না কমায় সোমবার সকালে আবারও অসুস্থতার কথা জানান এবং বিকেলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সোমবার সকালে বাবা-ছেলে একসঙ্গে নাস্তা করেন। এরপর গোপাল বিশ্বাস কাজে জামালপুর বাজারে চলে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মোবাইল ফোনে খবর পান, তার ছেলে গুরুতর অসুস্থ। দ্রুত বাড়িতে ফিরে এসে তিনি দেখেন, বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পাশে একটি লিচু গাছের নিচে তাপসের মরদেহ রাখা রয়েছে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তাপসকে খুঁজতে গিয়ে তার মা ঝর্ণা বিশ্বাস বাড়ির উত্তর-পশ্চিম পাশে একটি লিচু গাছের ডালে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মরদেহ নিচে নামান। ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হন তারা।
উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইব্রাহিম শেখ জানান, খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের হয়েছে।
ওসি জাকির হোসেন জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।