গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম শফিকের অপসারণ ও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ঘেরাও কর্মসূচী পালন করেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা| সোমবার সকাল থেকে ‘গৌরীপুরবাসী’ ব্যানার নিয়ে এ কর্মসূচী শুরু করে এবং একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন|
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শফিকুল ইসলাম শফিক বিগত আওয়ামী সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত, যিনি সাবেক ৪নং মাওহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন এবং বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ৭টি মামলার বাদী| এছাড়া তিনি জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া দুটি মামলারও আসামি|
অভিযোগকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন, যখন সারা দেশে চরম বিশৃঙ্খলা ও সাধারণ ছুটি চলছিল, তখন তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তড়িঘড়ি করে তাকে এই পদে নিয়োগ দেন|
এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল চেয়ে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোঃ মোস্তফা কামাল ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ ও স্মারকলিপি প্রদান করেছিলেন| এর প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনও উভয় পক্ষই তাকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করেছিলেন| কিন্তু অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে বরখাস্ত তো দূরের কথা, গত মার্চ মাসে তার এমপিও অনুমোদন করা হয় এবং তিনি বর্তমানে নিয়মিত বেতন-ভাতাও উত্তোলন করছেন|
আন্দোলনকারী মোঃ শীহদুল ইসলাম মিল্টন জানান, এই বিতর্কিত শিক্ষকের এমপিও প্রাপ্তির খবর জেনেই তারা শিক্ষা অফিস ঘেরাও করতে বাধ্য হয়েছেন এবং তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ ও নিয়োগ বাতিল না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন|
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। অফিসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা জরুরী। বিষয়টি যেহেতু এখনো আইনসিদ্ধ উপায়ে সমাধান হয়নি, তাই আন্দোলনকারীদের দেওয়া স্মারকলিপিটি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|