আনসারী পরিবার কোরবানি দেয়ায় এবার অন্তত গরুর মাংস খাইতে পারমু"

আপলোড সময় : ২৯-০৫-২০২৬ ০৯:৪৪:০৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৫-২০২৬ ০৯:৪৪:০৯ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:- ঈদের নামাজের পর চরে কোরবানির কোনো আনন্দ ছিল না। আনসারী পরিবার গরু কোরবানি দেওয়ায় এবার অন্তত গরুর মাংস খাইতে পারমু। কোরবানির মাংস পেয়ে এভাবেই অভিব্যক্তি প্রকাশ করছিলেন কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বতুয়াতলি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সুরুতজামাল। শুধু মোঃ সুরুতজামাল নয় চরের অধিকাংশ মানুষের নেই কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বালাডোবার চরের বাসিন্দা মোঃ মজিবর রহমান বলেন, চরে কোনো কোরবানি ছিল না। যার সামর্থ্য আছে, সে মোল্লারহাট থেকে ব্রয়লার মুরগি কিনে এনেছে। অনেকেই সেটাও পারেনি। পরে আনসারী পরিবারের দেওয়া এক কেজি করে মাংস পেয়ে সবাই খুশি হইছে। মনে হইছে ঈদ সবার জন্য সমান হইছে।’ অর্ধশতাধিক নদ-নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে ঈদুল আজহা মানেই অনেক পরিবারের জন্য কেবল ঈদের নামাজ। অভাব, নদীভাঙন ও বন্যার সঙ্গে লড়াই করা চরবাসীর অধিকাংশ চরে কোরবানি ছিল না। তবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী দম্পতি এডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান আনসারী ও এডভোকেট মোছাঃ নূর উন নাহার আনসারীর উদ্যোগে দুটি গরু কোরবানি হওয়ায় শতাধিক পরিবার ঈদের দিন গরুর মাংস খাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাদের দেওয়া মাংসেই কোরবানিবঞ্চিত অর্ধশতাধিক পরিবারে ঈদের আনন্দ ফিরেছে। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের বতুয়াতলি, বালাডোবার চর ও পাশের সাহেবের আলগা ইউনিয়নের সাতাশ দাগের চরের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার এসব চরে অধিকাংশ পরিবার কোরবানি দিতে পারেনি। কোথাও একটি ছাগল কোরবানি হয়েছে, আবার কোথাও সেটিও হয়নি। অনেক পরিবার ঈদের দিনে মুরগি কিনে রান্না করেছে, কেউ সেটিও পারেনি। জানা যায়, কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে প্রায় সাড়ে চার শতাধিক চরে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। তাদের কেউ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন, কেউ ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় তাত কারখানায় কাজ করেন, আবার কেউ কৃষি বা নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন। বন্যা ও নদীভাঙন এসব মানুষের নিত্যসঙ্গী। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বাবলু মিয়া বলেন, বালাডোবার চর, মুসার চর ও বতুয়াতলি তার ইউনিয়নের সবচেয়ে দরিদ্র এলাকা। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় শুধু ভিজিএফের চাল দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি উদ্যোগে আনসারী দম্পতি গরু কিনে কোরবানি দেওয়ায় চরের মানুষের ঈদ আনন্দময় হয়েছে। সামর্থ্যবানদের এভাবে এগিয়ে আসা দরকার।’ এডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান আনসারী বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই আমরা কয়েকটি চরে একটি করে গরু কোরবানি দিয়ে আসছি। এবার দুটি গরু কোরবানি দিয়েছি। আল্লাহ সামর্থ্য দিলে ভবিষ্যতে এটা আরও বাড়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, ভালো কাজের প্রচার থাকলে অন্যরাও উৎসাহিত হন। আমি নিজেও অন্য একজনকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। কোরবানি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করি। তবে প্রকৃত অভাবী মানুষের হাতে মাংস তুলে দিতে পারলে নিজেরও ভালো লাগে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]