তৌহিদুল ইসলাম সরকার,
বাংলাদেশ-এ কোরবানির পশুর চামড়া বাজারে আবারও সংকট ও মূল্যপতনের অভিযোগ উঠেছে। একসময় মাদ্রাসা ও এতিমখানার অন্যতম বড় আয়ের উৎস হলেও বর্তমানে চামড়া বিক্রি থেকে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় চরম হতাশা দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
মাদ্রাসা শিক্ষক ও চামড়া সংগ্রহকারীদের অভিযোগ, গত এক দশকে চামড়ার বাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। আগে যেখানে একটি ভালো মানের চামড়া কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা মাত্র কয়েকশ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে লবণ, শ্রম ও পরিবহন খরচ তুলতে না পেরে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
তাদের দাবি, বাজারে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা চামড়ার প্রকৃত মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দাম কমিয়ে দেয়। কোরবানির দিন চামড়ার কিছুটা দাম থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা দ্রুত কমে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
চামড়া সংগ্রহকারীরা আরও জানান, সরকার নির্ধারিত দাম বাজারে কার্যকর হয় না এবং আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের সমন্বয়ের অভাবে প্রান্তিক পর্যায়ের বিক্রেতারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। অনেক ক্ষেত্রে ট্যানারিগুলো সময়মতো টাকা পরিশোধ না করায় মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন বকেয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ে।
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনায় কঠোর সরকারি নজরদারি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং চামড়ার জন্য বাস্তবসম্মত স্থায়ী মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে।
তাদের মতে, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশের চামড়া শিল্প আরও সংকটে পড়বে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের ওপর।