বাল্যবিবাহের পাঁচ মাস পরই নিথর শামিমা-ছোট্ট ঘরে ঝুলে রইল এক কিশোরীর অপূর্ণ জীবন

আপলোড সময় : ২৭-০৫-২০২৬ ০৮:৫৩:২৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৫-২০২৬ ০৮:৫৩:২৭ অপরাহ্ন
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ছৈলাদি গ্রামের সকালটা বুধবার যেন অন্য দিনের মতো ছিল না। গ্রামের সরু পথ পেরিয়ে যখন মানুষজন নিজেদের কাজে ব্যস্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই ছড়িয়ে পড়ে এক হৃদয়বিদারক খবর-ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ। নিহত কিশোরীর নাম শামিমা আক্তার। মাত্র পাঁচ মাস আগে পরিবারের সম্মতিতে তার বিয়ে হয় পাশের গ্রামের কিশোর সোহানের সঙ্গে। দু’জনের সম্পর্কের শুরু হয়েছিল কৈশোরের আবেগঘন বন্ধুত্ব থেকে। সেই সম্পর্ক একসময় বিয়েতে গড়ালেও, অল্প বয়সে সংসারের বাস্তবতা তাদের জীবনে নেমে আনে অস্থিরতা। স্থানীয়দের ভাষ্য, বিয়ের পর থেকেই দু’জনের সংসারে ছোটখাটো ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। বুধবার সকাল ১০টার দিকে স্বামীর বাড়ির একটি কক্ষে শামিমাকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে আশপাশের লোকজন। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু-তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাবে। ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামরুল ইসলাম জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাল্যবিবাহের বিষয়টি। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর। কিন্তু বাস্তবতায় এখনো দেশের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় সামাজিক চাপ, পারিবারিক সিদ্ধান্ত কিংবা সম্পর্কের অজুহাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। শামিমার মৃত্যুর পর স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন-যখন বিয়েটি হচ্ছিল, তখন কি কেউ জানতেন না যে এটি আইনবিরোধী? যদি জেনে থাকেন, তবে কেন তা ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি? একটি কিশোরী জীবনের এমন করুণ পরিণতি যেন আবারও মনে করিয়ে দিল-অপরিণত বয়সে সংসারের দায় চাপিয়ে দিলে অনেক স্বপ্ন নীরবেই ঝুলে যায় ঘরের আড়ায়। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]