কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলার শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নির্বাচিত হয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম।
জেলার পাঁচটি উপজেলার সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়ন শেষে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। শিক্ষা খাতে তাঁর সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ স্থানীয় শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। গত বছরের ২৬ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউএনও এটিএম কামরুল ইসলাম শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ধারাবাহিকভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে সরাসরি তদারকির ফলে বিদ্যালয়গুলোতে শৃঙ্খলা ও পাঠদানের মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর অংশ হিসেবে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মার্ট ইন্টারঅ্যাকটিভ বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতটি বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির ফিল্টার বসানো এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ঝরে পড়া রোধ ও শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচিও পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম চালু রয়েছে। ‘শিক্ষক বাতায়ন’ ও আইপিইএমআইএস সফটওয়্যারের ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে অ্যানিমেশন, ভিডিও ও ছবির মাধ্যমে পাঠদান শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে। এর ফলে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে সৃজনশীল শিক্ষাচর্চা বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতা এবং অনেক শিক্ষকের প্রযুক্তিগত দক্ষতার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ভবিষ্যতে উপজেলার সব শ্রেণিকক্ষে স্মার্ট বোর্ড স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, ইউএনও এটিএম কামরুল ইসলামের উদ্যোগে কালীগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন গতি এসেছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশও আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
উল্লেখ্য, এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম ৩৬তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা। কালীগঞ্জে যোগদানের পর থেকে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রশাসনিক ও শিক্ষা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।