র‍্যাব-৯ ও র‌্যাব-১৪ এর যৌথ অভিযানে শেরপুরের মানব পাচার মামলার ভিকটিম ‘শিমুল ইসলাম’কে সুনামগঞ্জ থেকে উদ্ধার

আপলোড সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ০৪:৪৫:২৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ০৪:৪৫:২৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক

র‍্যাব-৯ ও র‌্যাব-১৪ এর যৌথ অভিযানে শেরপুরের মানব পাচার মামলার
ভিকটিম ‘শিমুল ইসলাম’কে সুনামগঞ্জ থেকে উদ্ধার

 র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এলিট ফোর্স হিসেবে আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন
থেকেই বিভিন্ন ধরনের নৃশংস ও ঘৃণ্যতম অপরাধ বিশেষ করে মাদক উদ্ধার, হত্যা মামলা, সন্ত্রাসী,
চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী
ভূমিকা পালন করে আসছে| এছাড়াও যে কোন ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে র‌্যাবের প্রতিটি সদস্য
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ তথা দেশ বিনির্মাণে নিরলস
ভাবে কাজ করে যা”েছ|

ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, ভিকটিম শিমুল ইসলাম (২০) শেরপুর জেলার সদর থানাধীন চরভাবনা
এলাকার বাসিন্দা| ০১নং বিবাদী হাবিবুর রহমান হবি ভিকটিমকে ক¤ে^াডিয়ায় পাঠাবে বলে প্রস্তাব
দেয়| পরবর্তীতে বিবাদীগণ ভিকটিমের বাড়িতে এসে তার পিতা মাতাকে জানায় যে, তারা
ক¤ে^াডিয়ায় অনেক লোক পাঠিয়েছে এবং ০২নং বিবাদী শামিম ক¤ে^াডিয়ায় থাকে, সে জন্য
বিবাদীগণকে ০৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে| ভিকটিমের পরিবার বিবাদীগণের কথায় বিশ্বাস করে ০৫ লক্ষ টাকা
দিলে ০১নং বিবাদী ভিকটিমকে ঢাকাতে নিয়ে ইটজঊঅট ঙঋ গঅঘচঙডঊজ ঊগচখঙণগঊঘঞ অঘউ
ঞজঅওঘওঘএ থেকে তিন দিন ট্রেনিং করিয়ে ভিকটিমের পাসপোর্ট নিয়ে কিছুদিন পর বিবাদীরা
ভিকটিমকে ই-ভিসার একটি ফটোকপি দেয় এবং একটি ই-টিকিট ভিকটিমের মোবাইলে পাঠায়|
পরবর্তীতে গত ২২/১১/২০২৫ খ্রি. তারিখ আনুমানিক সকাল ০৮.০০ ঘটিকার সময় বিবাদীগন

অজ্ঞাতনামা ০২ জন সহ ভিকটিমকে নিয়ে ঢাকায় এয়ারপোর্টে অজ্ঞাত নামা ০৪/০৫ জন লোকের মাধ্যমে
ভিকটিমকে চায়না সাউদার্ন এয়ার লাইনস এ করে ক¤ে^াডিয়া পাঠিয়ে দেয়| ভিকটিম ক¤ে^াডিয়া
গিয়ে জানতে পারেন যে, ০২নং বিবাদী ক¤ে^াডিয়ার একটি কোম্পানীর নিকট ০২ লক্ষ টাকার
বিনিময়ে ভিকটিমকে বিক্রি করে দিয়েছে| অতঃপর পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে বিক্রি করার বিষয়টি
বিবাদীগণকে জানালে বিবাদীগণ ভিকটিমকে ভাল চাকুরি দেবে বলে ভিকটিমের পরিবারের কাছে আরো
০২ লক্ষ টাকা দাবি করে| ভিকটিমের পরিবার তাদের কথায় বিশ্বাস করে বিবাদীগণকে ০২ লক্ষ টাকা প্রদান
করেন| পুনরায় ভিকটিম তার পরিবারকে জানায় যে, ক¤ে^াডিয়ায় বিবাদীগণের লোকজন তাকে সিড়ির
নিচে আটকে রেখে র্পাপোর্ট নিয়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করছে| পরবর্তীতে ০২নং বিবাদী
ক¤ে^াডিয়া থেকে বাংলাদেশে আসলে ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি তাদের জানালে ০১নং বিবাদী আরও
০২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাবী করে| বিবাদীগন কিছুদিন পর ভিকটিমের পরিবারের লোকজনদের জানায়
ভিকটিম কোম্পানী হতে ২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে গেছে তাই তারা ভিকটিমকে আটক করে রেখেছে|
কোম্পানীর ২৫ লক্ষ টাকা দিয়ে দিলে ভিকটিমকে ছেড়ে দিবে| ভিকটিমের পরিবার এতো টাকা দিতে
পারবো না বললে বিবাদীগণ উত্তেজিত হয়ে বাদীকে গালিগালাজ করে এবং তাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ
করে দেয়| উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের বোন বাদী হয়ে শেরপুর জেলার সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন| এরই
প্রেক্ষিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাব এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা
তৎপরতা জোরদার করেন|
৩| এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জ এবং র‌্যাব-১৪,
সিপিসি- ১, জামালপুর এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গত ২৩ মে ২০২৬ খ্রি. তারিখ আনুমানিক
দুপুর ১২.০৫ ঘটিকার সময় সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানাধীন সাচনা বাজার এলাকায় অভিযান
পরিচালনা করে শেরপুর জেলার সদর থানার মামলা নং- ২০, তারিখ- ০৬/০৩/২০২৬ খ্রি., ধারা-মানব-পাচার
প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর ৬(২)/৭/৮(২) এর মূলে শেরপুরের মানব পাচার মামলার ভিকটিমকে উদ্ধার করতে
সক্ষম হয়| উদ্ধারক...ত ভিকটিম শিমুল ইসলাম (২০), পিতা- মোঃ আব্দুর রশিদ নীহার সাং- চরভাবনা
কান্দাপাড়া, থানা- শেরপুর সদর, জেলা- শেরপুর|

 পরবর্তী আইনি ব্যব¯’া গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্ধারক...ত ভিকটিমকে শেরপুর জেলার সদর থানায় হস্তান্তর
করা হয়েছে| এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরি¯ি’তি ¯^াভাবিক রাখতে র‌্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা
তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে|

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]