ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ ট্রাম্পের

আপলোড সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ১০:৩২:২১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ১০:৩২:২১ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পরদিনই সুর বদলালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখনই পুরোপুরি চূড়ান্ত নয় এবং তিনি তার প্রতিনিধিদের এ বিষয়ে ‘তাড়াহুড়ো না করার’ নির্দেশ দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা চলছে। তবে চুক্তিটি নিখুঁত করতে ‘উভয় পক্ষকেই পর্যাপ্ত সময় নিতে হবে এবং এটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে।’ এর আগে গত শনিবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, একটি চুক্তির বিষয়ে ‘মোটামুটি আলোচনা করা হয়েছে’, যার ফলে খুব দ্রুতই কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল।

বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে যে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে ৬০ দিনের বর্ধিত যুদ্ধবিরতি, কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী আলোচনার একটি পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো চূড়ান্ত রফা নয়, বরং সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য তুলে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি তহবিল অবমুক্ত করা এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের দাবি।

প্রস্তাবিত এই চুক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। কট্টরপন্থি রিপাবলিকানদের একাংশ মনে করছেন, চুক্তিটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নরম বা শিথিল। সিনেটর টেড ক্রুজ এটিকে একটি ‘বিপর্যয়কর ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেছেন, ৬০ দিনের এই যুদ্ধবিরতির অর্থ দাঁড়াবে-‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে অর্জিত সমস্ত সাফল্যই বৃথা যাবে।

তবে হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য মাইক ললার প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এই শাসনব্যবস্থার অবশিষ্টাংশকে একটি প্রকৃত আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে পেরেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বজুড়ে উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। এরপর এপ্রিলের শুরুতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও মার্কিন প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, একটি চুক্তি স্বাক্ষর ও প্রত্যয়ন না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ সম্পূর্ণ কার্যকর থাকবে।

রোববার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প আবারো জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে অবশ্যই বুঝতে হবে তারা কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]