কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কলেজের ফটকের তালা ভেঙে পশুর হাট বসালো ছাত্রদল নেতা

আপলোড সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ১২:০৫:৪২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৫-২০২৬ ১২:০৫:৪২ পূর্বাহ্ন
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ফটকের তালা ভেঙে মাঠে পশুর হাট বসিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সমাজসেবা সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমক। কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি না মিললেও পেশীশক্তি ব্যবহার করে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানো হয়।
 
রবিবার (২৪ মে) দুপুরে চিলমারী সরকারি কলেজ গেটের তিনটি তালা ভেঙে মাঠে বাঁশের খুঁটি বসিয়ে হাট শুরু করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডঃ মোঃ মজিবল হায়দার চৌধুরী।
 
মোঃ জিহাদ ফেরদৌস চমক কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সমাজসেবা সম্পাদক। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলা শহরের বাসিন্দা। অভিযুক্ত এই সাবেক ছাত্রদল নেতার দাবি, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে অবহিত করে কলেজ মাঠে তিনি হাট বসিয়েছেন। তবে লিখিত অনুমতি দেখাতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
 
কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডঃ মোঃ মজিবল হায়দার চৌধুরী জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কলেজ মাঠে হাট বসানোর নিয়ম নেই। কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত বুধবার রেজুলেশনসহ লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়। এর অনুলিপি জেলা প্রশাসক এবং চিলমারী থানার ওসিকেও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব কিছুর পরও জোর পূর্বক কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে।
 
অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডঃ মোঃ মজিবল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘কলেজ মাঠে তো পশুর হাট বসাতে পারে না। লিখিতভাবে জানানোর পরও আমি নিজে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়কে জানিয়েছি। রবিবার সকালে কলেজ চত্বরে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এরপর কী ন্যাগেসিয়েশন হয়েছে, তা জানি না। কিছুক্ষণ পর পুলিশ চলে গেলে আয়োজকরা গেটের লাগানো তিনটি তালা ভেঙে মাঠে প্রবেশ করে। কলেজ মাঠে বাঁশের খুঁটি পুঁতে গরু-ছাগলের হাট বসানো হয়েছে।’
 
নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডঃ মোঃ মজিবল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আমি তো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারি না। স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এটা ডিসি এবং ইউএনওর কাজ। তারা ব্যবস্থা না নিলে আমি কী করতে পারি।’
 
ছাত্রদল নেতা চমক বলেন, ‘সরকার ২০২৫ সালে অস্থায়ী হাট বসানোর আইন করেছে। অস্থায়ী হাট করতে হলে ডিসিকে একটা জামানত দিতে হবে। আমরা জামানত জমা দিয়েছি। ডিসির অনুমতি নিয়ে কলেজ মাঠে হাট বসিয়েছি। টাকা জমা দেওয়ার রিসিট আমার কাছে আছে।’
 
‌‘আমাদেরকে ডিসি অফিসে তলব করেছিল। ডিসি অফিসে আমরা অনুমতি নিয়েছি। তারা বলেছেন যে “ফি দিয়ে আপনারা এটা করেন”। সরকারের নিয়ম মেনে আমরা এটা করেছি। ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে বসেছি। তাদের অনুমতি ছাড়া কি আমরা এটা করতে পারি। এটি ঐতিহ্যবাহী হাট। অনেক বছর ধরে এই হাট কলেজ মাঠে বসে আসছে। এটা অস্থায়ী হাট। আমাদের দেশে স্কুল কলেজের মাঠে অস্থায়ী হাট বসে।’ বলেন এই ছাত্রদল নেতা।
 
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট বসানোর বৈধতা প্রশ্নে ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘এটা সারা জীবন হয়ে আসছে।’
 
তবে ছাত্রদল নেতার এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। তিনি বলেন, ‘তারা আবেদন করেছিল। কিন্তু অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা কোনও অনুমোদন দিইনি। অধ্যক্ষ গেটে তালা দিয়ে রেখেছেন। সেই তালা ভেঙে হাট বসানো হয়েছে। আমি বিষয়টি দেখার জন্য চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)কে বলেছি।’

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]