আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও কামারপল্লিতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। বছরের অধিকাংশ সময় কাজের মন্দাভাব থাকলেও কুরবানির মৌসুমে বটি, ছুরি, দা, চাপাতি ও মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি ও বিক্রিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার সিংঙ্গারডাবরী বাজারে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে বসে কামাররা মাংস কাটার সরঞ্জাম বিক্রি করছেন। কেউ পুরনো ছুরি ও চাপাতিতে নতুন করে শান দিচ্ছেন, আবার কেউ তৈরি করছেন নতুন ধারালো সরঞ্জাম। অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ রেখেছেন বলেও জানান কয়েকজন কারিগর।
ঈদুল আজহায় পশু কুরবানির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের চাহিদা বাড়ায় এ সময়টিকে আয়-রোজগারের প্রধান মৌসুম হিসেবে দেখছেন কামাররা। তারা জানান, বছরের অন্য সময়ে কৃষিকাজের সরঞ্জাম তৈরি ও মেরামতের কাজ করলেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় সেই চাহিদা অনেক কমে গেছে।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার সিংঙ্গারডাবরী হাট বাজারের কামার বিপ্লব কর্মকার বলেন, প্রায় ১৮ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে আছি। আগে লাঙ্গল, কাস্তে, কোদাল, কুড়ালসহ কৃষিকাজের সরঞ্জাম তৈরির কাজ বেশি ছিল। এখন আধুনিক যন্ত্রপাতির কারণে সেই কাজ কমে গেছে। কুরবানির ঈদ এলেই কাজের চাপ বাড়ে। এই সময়ের আয় দিয়েই অনেকটা বছর চালাতে হয়।
লৌহ সরঞ্জাম বিক্রেতা মোঃ মুরাদ মিয়া জানান, ছোট ছুরি থেকে শুরু করে বড় চাপাতি পর্যন্ত বিভিন্ন সরঞ্জাম ৩০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এসব সরঞ্জাম কুরবানির পশু জবাই ছাড়াও দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয়দের মতে, একসময় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই পেশায় অনেক মানুষের কর্মসংস্থান ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনে কাজের অভাবে অনেকে অন্য পেশায় চলে গেছেন। তবুও ঈদকে কেন্দ্র করে মৌসুমি চাহিদা বাড়লে পুরনো অনেক কারিগর আবার কাজে ফিরে আসেন।
ঈদুল আজহাকে ঘিরে এই বাড়তি কর্মব্যস্ততা তাদের পরিবারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার কামাররা।