সীতাকুণ্ডে উন্নয়ন বন্ধ, বিপর্যস্ত জনজীবন

আপলোড সময় : ২২-০৫-২০২৬ ০৪:২৮:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৫-২০২৬ ০৪:২৮:২১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের অন্যতম শিল্প, অর্থনৈতিক ও পর্যটনসমৃদ্ধ জনপদ সীতাকুণ্ড উন্নয়ন সংকটে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ আটকে থাকায়, উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম থেমে গেছে। ফলে ভাঙাচোরা সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল ভরাট ও জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সামনে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায়, স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও শঙ্কা। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শুরু না হলে, চলতি বর্ষায় সীতাকুণ্ডের বিস্তীর্ণ জনপদ ভয়াবহ দুর্ভোগের মুখে পড়তে পারে।

সরেজমিনে সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, ভাটিয়ারী ও সোনাইছড়িসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। কোথাও কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে করুণ অবস্থায় রয়েছেন গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এতে রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে অনেক সড়ক এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে পড়ছে।

পরিবেশবিদ ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, খাল দখল ও অপরিকল্পিতভাবে মাটি ভরাটের কারণে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাল ও ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, কৃষিজমিতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত সীতাকুণ্ড উপজেলার জন্য কোনো বরাদ্দ না আসায়, সব ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির বরাদ্দ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আসে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সীতাকুণ্ড উপজেলার জন্য কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, বরাদ্দ পেলেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুম উন্নয়ন কাজের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায়, এবার কোনো কাজ শুরু করা যায়নি। এতে যেমন জনদুর্ভোগ বাড়ছে, তেমনি শ্রমিকরাও কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন।’

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]