মোঃ সাকিব, দিনাজপুর হিলি প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি এলাকায় জমে উঠতে শুরু করেছে কুরবানির পশুর হাট। কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই হাটে বাড়ছে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার আমদানি। স্থানীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা তাদের লালন-পালন করা পশু নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেছেন। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার ও সাধারণ ক্রেতারাও ভিড় করছেন পছন্দের পশু কিনতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হিলি অঞ্চলে কোরবানির পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি ছিল এবং দেশীয় খামারিরা বড় প্রস্তুতি নিয়ে হাটে পশু তুলছেন।\
সরেজমিনে হিলির পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে শুরু হওয়া বেচাকেনা সন্ধ্যা পর্যন্ত চললেও বিকেলের পর হাটে মানুষের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছোট-বড় নানা জাতের গরু, মহিষ ও ছাগল নিয়ে বিক্রেতারা বসছেন হাটে। ক্রেতারা পশুর স্বাস্থ্য, গঠন ও দাম যাচাই-বাছাই করে দরদামে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় খামারিরা বলছেন, সারা বছর কষ্ট করে পশু লালন-পালন করে ঈদ মৌসুমের দিকেই তাকিয়ে থাকেন তারা। এবার খাদ্য ও পশুপালনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভালো দামের আশা করছেন খামারিরা। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা বেশি চাওয়া হচ্ছে। তবুও পছন্দের পশু কিনতে দর কষাকষি করে যাচ্ছেন তারা।
হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, হিলি অঞ্চলে কোরবানিকে সামনে রেখে বিপুল সংখ্যক গরু, মহিষ ও ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আশপাশের জেলা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এখানকার পশু সরবরাহ করা হয়। পূর্বের বছরগুলোতে হাকিমপুর উপজেলায় কোরবানির পশুর সংখ্যা স্থানীয় চাহিদার চেয়েও বেশি ছিল বলে প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি অসুস্থ পশু শনাক্ত ও পশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করছে বলেও জানা গেছে।
কোরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই হিলির পশুর হাটে বাড়ছে প্রাণচাঞ্চল্য। খামারি ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা আরও জমে উঠবে এবং কাঙ্ক্ষিত লাভের মুখ দেখবেন তারা।