রাজবাড়ীর মৎস্যবীজ খামারের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে অনিয়ম

আপলোড সময় : ২১-০৫-২০২৬ ০৩:৪০:০৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৫-২০২৬ ০৩:৪০:০৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজবাড়ীর জেলা মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারের দেয়াল নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিম্নমানের খোয়া, নদীর ভরাট বালু ও ময়লাযুক্ত সিলেট সেন্ড ব্যবহার করা হচ্ছে এসব কাজে। মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে সরকারি জায়গা ছেড়ে দিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ।

প্রায় সাত একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত এ খামারের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে খামার ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাই তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাসা ভাসা কথা বলেন ফার্ম ম্যানেজার দেবব্রত বিশ্বাস।

১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারটির অবকাঠামো উন্নয়ন তেমন উন্নতি নাই বললেই চলে। ২০১০ সালে এটির সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। পুরোনো দেয়াল ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রাজবাড়ীর খামারের ৭২৫ মিটার সীমানা প্রাচীরের প্রাক্কলনমূল্য এক কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রাচীরের প্রায় ২০০ফুট পানির নিচে পড়ায় পাইলিংসহ আরো ৫০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ হয়েছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য থেকে জানা গেছে।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বেজমেন্ট ও পিলার ঢালাইতে নিম্নমানে ইটের খোয়া বালু ব্যবহার হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে পিকেট বা মানসম্পন্ন ইটের খোয়া না ভাঙিয়ে ইটভাটা থেকে খোয়া সংগ্রহ করে ঢালাই করা হচ্ছে। এছাড়া পূর্বে নির্মিত সীমানা প্রাচীরের নিচের অংশ অপসারণ না করে কোথাও একফুট কোথাও তিনফুট পর্যন্ত জায়গা ছেড়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। জানতে চাইলে মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারের ম্যানেজার দেব ব্রত বিশ্বাস বলেন, কিছু ইটের খোয়া খারাপ ছিল সেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে।

জায়গা ছেড়ে দিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ বিষয়ে বলেন, এলাকায় অনেকের বাড়িঘর থাকায় একটু দূর থেকে কাজ করতে হচ্ছে। এজন্য কিছুটা জায়গা ছেড়ে প্রাচীর নিমাণ করা হচ্ছে। তাছাড়া প্রাচীরের ওপর রিং নেট ব্যবহার করার কারণে কিছু জায়গা ছাড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য অফিসার মাহবুবুল আলম জানান, প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের নমুনা পাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছি।

শামীম বিল্ডার্স নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শামীম আহমেদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব না হলেও কাজের সাইটের হেড মিস্ত্রি আবু হানিফ বাবু জানান, তিনি পুরো কাজ কন্ট্রাক্ট নিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্মাণসামগ্রী ঠিকাদার সরবরাহ করবেন। শুধু ফাউন্ডেশন ও গাঁথুনি ও প্লাস্টারের কাজ তিনি করবেন। নির্মাণসামগ্রীর বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য করার দায়দায়িত্ব নেই।

বীজ উৎপাদন খামারের সাবেক ম্যানেজার শাহজাহান আলী বলেন, আগে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সময় তিন ফুট করে জায়গা ছেড়ে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছিল। এখন আবার যদি এক-দেড়ফুট জায়গা ছাড়া হয় তাহলে সরকারি জায়গা যাদের দেখে রাখার কথা এটা তাদের অবহেলা।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]