সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টা: পটুয়াখালীতে সংবাদ সম্মেলন

আপলোড সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০৭:১০:১৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০৭:১০:১৬ অপরাহ্ন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর আলোচিত খাবার প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর টাওয়ার সিঙ্গাপুর বাংলা অ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজির চেষ্টা ও ব্যবসায়িক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঘটনার পরপরই মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। পটুয়াখালী শহরের সিঙ্গাপুর টাওয়ারের হল রুমে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক মোহাম্মদ ফজলুর রহমানের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রেস্টুরেন্টটির হল সুপার মোঃ জুলহাস।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, একটি সংঘবদ্ধ স্বার্থান্বেষী ও বিশৃঙ্খলাকারী চক্র পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম নষ্ট, ব্যবসায়িক ক্ষতি সাধন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নিজেকে ফুড ব্লগার পরিচয়দানকারী এবং পটুয়াখালীর ছাত্রশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব পরিচয় ব্যবহারকারী মোঃ এস এম সুফিয়ান প্রায়ই বন্ধুদের নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে আসতেন। সম্প্রতি তিনি আরও দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে খাবার গ্রহণ শেষে “ফুড ব্লগার” পরিচয় দিয়ে পুরো বিল মওকুফ করার দাবি জানান। তবে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মের বাইরে গিয়ে বিল মওকুফে অপারগতা প্রকাশ করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন।

এ সময় তিনি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিল পরিশোধ না করেই চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে রেস্টুরেন্ট কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেন কর্তৃপক্ষ।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ১ এপ্রিল রেস্টুরেন্টটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না পাওয়াকে কেন্দ্র করেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর থেকেই বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক অবস্থান নিতে শুরু করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গত ১৮ মে সুফিয়ান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে রেস্টুরেন্টকে নিয়ে নেতিবাচক, বিদ্রূপাত্মক ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্যসহ একটি রিভিউ প্রকাশ করেন। ওই পোস্টে খাবারের মান, মূল্য ও পরিবেশ নিয়ে নানা কটূক্তি করা হয়, যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়।

ফজলুর রহমানের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর তার ছোট ভাই মোহাম্মদ জলিল ঢাকায় অবস্থানরত অবস্থায় ফোনে সুফিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান। এসময় উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে সেই কথোপকথনের একটি অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৮ থেকে ১০ জন তথাকথিত সাংবাদিক ও ফেসবুকার রেস্টুরেন্টে এসে মোহাম্মদ জলিলকে খুঁজতে থাকেন। তাকে না পেয়ে তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ফেসবুক লাইভ সম্প্রচার শুরু করে রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং ম্যানেজার ও কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এতে রেস্টুরেন্টের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এবং উপস্থিত গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,
“সিঙ্গাপুর টাওয়ার সবসময় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, মানসম্মত খাবার ও গ্রাহকসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা, ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে আমাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।”

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন সিঙ্গাপুর টাওয়ার কর্তৃপক্ষ।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]