গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে ট্রাম্প প্রশাসনের গোপন বৈঠক

আপলোড সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ১২:০৯:৩৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ১২:০৯:৩৯ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের রেশ কাটতে না কাটতেই গ্রিনল্যান্ডের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নতুন তৎপরতা শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গত চার মাস ধরে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিনল্যান্ড এবং দেশটির পররাষ্ট্র নীতি নিয়ন্ত্রণকারী ডেনমার্কের প্রতিনিধিদের মধ্যে অত্যন্ত গোপনীয় আলোচনা চলছে।

গ্রিনল্যান্ড সামরিকভাবে দখল করার যে হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা থেকে তাকে সরিয়ে আনতে এবং ন্যাটো জোট ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে মূলত এই আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল। তবে এই দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ভূমিকা রাখার প্রস্তাব নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন গ্রিনল্যান্ডের নেতারা।

তারা আশঙ্কা করছেন, ইরানের সাথে সংঘাত কমে এলে ট্রাম্প আবারো পূর্ণ শক্তি নিয়ে গ্রিনল্যান্ডের দিকে মনোনিবেশ করতে পারেন। এমনকি গ্রিনল্যান্ডের কিছু রাজনীতিক আগামী ১৪ জুন ট্রাম্পের জন্মদিনকে সতর্ক থাকার দিন হিসেবে ক্যালেন্ডারে চিহ্নিত করে রেখেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র, কোপেনহেগেন ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি 'দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অত্যন্ত সংবেদনশীল কিছু তথ্য উঠে এসেছে। তথ্যগুলো হলো-

স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি: যুক্তরাষ্ট্র একটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক চুক্তি সংশোধন করতে চাইছে, যার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন হলেও মার্কিন সেনারা সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করতে পারবে। এই ‘চিরস্থায়ী ধারা’ (ফরএভার ক্লজ) গ্রিনল্যান্ডের নাগরিকেরা একেবারেই পছন্দ করছেন না।

বিনিয়োগে ভেটো ক্ষমতা: সামরিক বিষয়ের বাইরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের যেকোনো বড় বিনিয়োগ চুক্তিতে কার্যকর 'ভেটো' দেওয়ার ক্ষমতা দাবি করছে, যাতে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিযোগীদের সেখানে কোণঠাসা করা যায়। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক উভয় পক্ষই এতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।

প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে আলোচনা: বরফের নিচে চাপা পড়ে থাকা গ্রিনল্যান্ডের তেল, ইউরেনিয়াম, রেয়ার আর্থসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ যৌথভাবে উত্তোলনের বিষয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

সামরিক সম্প্রসারণ: মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন ইতোমধ্যে সামরিক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মারিন কোরের একজন কর্মকর্তাকে দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নার্সারসুয়াক শহরে পাঠানো হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আমলের বিমানবন্দর, বন্দর এবং মার্কিন সেনাদের আবাসন ব্যবস্থা পরিদর্শন করার জন্য।

গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, মার্কিন এই কঠোর দাবিগুলো তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় ধরনের আঘাত। মার্কিন ও ডেনিশ কর্মকর্তারা মুখে গ্রিনল্যান্ডের ৫৭ হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ তাদের নিজেদের হাতে বলে দাবি করলেও, ভেতরের দাবিগুলো মূলত তাদের হাত কয়েক প্রজন্মের জন্য বেঁধে ফেলবে।

গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্ট সদস্য জাস্টাস হ্যানসেন বলেন, ‘আমেরিকানরা যা চায় তার সব পেয়ে গেলে কোনোদিন ‘প্রকৃত স্বাধীনতা’ আসবে না।













 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]