কুড়িগ্রামে গরুর শরীরে 'লাম্পি স্কিন’ রোগের তান্ডব, আতঙ্কে খামারিরা

আপলোড সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ১২:০৫:২৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ১২:০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় গবাদিপশুর মারাত্মক সংক্রামক রোগ ‘লাম্পি স্কিন'  রোগ (এলএসডি) ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক মাসে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে শত শত গরু নতুন করে আক্রান্ত হওয়ায় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
 
 
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়ন, নাজিমখান ইউনিয়ন, বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন, উমরমজিদ ইউনিয়ন, ছিনাই ইউনিয়ন ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রোগটির ব্যাপক বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে।
 
রোববার (১৭ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ খামারের গরুই লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত। বিশেষ করে বাছুর আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
 
খামারিদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক ও চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে পল্লি পশুচিকিৎসক ও কবিরাজদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এতে ভুল চিকিৎসা ও নিম্নমানের ওষুধ প্রয়োগের কারণে গবাদিপশু যেমন মারা যাচ্ছে, তেমনি খামারিদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের ঘটনাও ঘটছে।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ থেকে ১২ মে পর্যন্ত চাকিরপশার ইউনিয়নের চকনাককাটি গ্রামে সুশীল মন্ডল, ভগলু মিয়া ও শৈলেন মন্ডলের একটি করে মাঝারি আকারের গরু মারা গেছে। এ ছাড়া চাকিরপশার পাঠক গ্রামে শিব শংকর মন্ডলের দুটি, পদ্দানটারী গ্রামের আব্দুস সালামের দুটি গরুসহ আমিন বাজার এলাকায় ৬টি গরুর মারা গেছে।
 
এদিকে নাজিমখানের চেংপাড়া এলাকায় তিনটি, বুড়ারপাট এলাকায় ৩টি, তালুক সাকোয়া গ্রামে ৭টি, বোতলার পাড় এলাকায় ৮টি এবং গোবর্ধন দোলায় ১০টি গরু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ছিনাই এলাকাতেও অন্তত ৮টি গরু মারা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
 
স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাসে রাজারহাট উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের শতাধিক গরু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, যার বেশির ভাগই বাছুর।
 
রাজারহাট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রহমত আলী বলেন, ‘বর্তমানে লাম্পি স্কিন রোগটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এটি মূলত মশা ও মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত গবাদিপশুকে দ্রুত সুস্থ পশু থেকে আলাদা রাখা এবং জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
 
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকায় দ্রুত সরকারিভাবে টিকা সরবরাহ, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]