শ্রীমঙ্গলে ২২ হাজার শিশুর স্কুল ফিডিং কার্যক্রম বন্ধ

আপলোড সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০৬:০৫:৪১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৫-২০২৬ ০৬:০৫:৪১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থীর স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের খাবার সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) অনুমোদিত প্যাকেজিং পলির সংকটের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গলের ১৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলমান স্কুল ফিডিং কার্যক্রমে প্রতিদিন কলা, ডিম ও বনরুটি সরবরাহ করা হয়। তবে অনুমোদিত প্যাকেজিং পলি না পাওয়ায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স সাময়িকভাবে খাবার সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।

বুধবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে দেওয়া এক লিখিত আবেদনে ইসলাম ট্রেডার্সের প্রোপ্রাইটর মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত মান বজায় রাখতে বিএসটিআই অনুমোদিত বিশেষ পলি ব্যবহার বাধ্যতামূলক। বর্তমানে ওই পলির সংকট দেখা দেওয়ায় প্যাকেজিং ও সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে আগামী দুই থেকে তিন দিন খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লিখিতভাবে জানিয়েছে, বিএসটিআই অনুমোদিত পলি না পাওয়ায় তারা আগামী কয়েকদিন খাবার সরবরাহ করতে পারবে না। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা চলছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ডাকা হয়েছে। বৈঠকের পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তিনি আরো জানান, সম্প্রতি উপজেলার টিকরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠে। পরে শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি তদন্ত দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যবহৃত বনরুটির প্যাকেট বিএসটিআই অনুমোদিত নয় বলে উল্লেখ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আ. ছত্তার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণেশ লাল কৈরী বলেন, শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার থেকে আগামী তিন-চার দিন স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের খাবার সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

ইসলাম ট্রেডার্সের স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা খাইরুল বাশার বলেন, যে পলির নমুনা অনুমোদন করানো হয়েছিল, এখন সেটির চাহিদা সারা দেশে বেড়ে গেছে। শুধু আমাদেরই প্রতি মাসে তিন থেকে চার টন প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে এবং দামও বেড়েছে।

তিনি জানান, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া, বাহুবল ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় তাদের প্রতিষ্ঠান খাবার সরবরাহ করছে।

কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল মিলিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খাবার দেওয়া হচ্ছে। কোথাও খাবারের মান নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে তা পরিবর্তনের নির্দেশনা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২২ হাজার ডিম সরবরাহ করা হয়। কোনো কোনো জায়গায় এক-দুটি নষ্ট ডিমের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এটি নিয়মিত নয়।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]