‘সাংস্কৃতিক বয়ান ও একপেশে ইতিহাসচর্চা ফ্যাসিবাদকে টিকিয়ে রেখেছিল’

আপলোড সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ০১:১৬:৫৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৫-২০২৬ ০১:১৬:৫৮ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘সিলেকটিভ ইনক্লুশন’ ও একপেশে ইতিহাসচর্চার সমালোচনা করে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনা শিল্প-সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে উপেক্ষিত থেকে গেছে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুক্তিযুদ্ধের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে জেনারেল ওসমানীর অনুপস্থিতি, ভাসানীর রাজনৈতিক ভূমিকা, রক্ষীবাহিনীর নির্যাতন কিংবা মেজর জলিলকে নিয়ে কেন উল্লেখযোগ্য সিনেমা বা উপন্যাস তৈরি হয়নি। একইভাবে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান, জমিদারি শোষণ কিংবা বাহাত্তর-পরবর্তী নৈরাজ্যও দেশের মূলধারার শিল্প-সংস্কৃতিতে পর্যাপ্তভাবে উঠে আসেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ফারুকী বলেন, গুম, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নিপীড়নের মতো ঘটনাগুলো নিয়েও দেশে শক্তিশালী ফিকশন নির্মাণ হয়নি। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইলিয়াস আলী, সুমন, আরমান কিংবা আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, লাতিন আমেরিকার চলচ্চিত্রকাররা যেভাবে নিজেদের ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায় সিনেমায় তুলে ধরেন, বাংলাদেশে সেই প্রবণতা দেখা যায় না।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য রাশেদ খাঁনের
তার মতে, এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, সমাজে এমন এক সাংস্কৃতিক বয়ান তৈরি হয়েছে যেখানে কিছু বিষয়কে ‘প্রগতিশীল’ বা ‘সাংস্কৃতিকভাবে গ্রহণযোগ্য’ হিসেবে দেখা হয় না। দ্বিতীয়ত, এসব বিষয় নিয়ে কাজ করতে গেলে শিল্পীদের ‘রাজাকার’সহ নানা তকমার মুখে পড়তে হয় এবং প্রযোজনা বা অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়।


ফারুকী আরো দাবি করেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ‘হাই কালচার’ ও ‘লো কালচার’-এর একটি বিভাজন তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একটি রাজনৈতিক দলকে প্রগতিশীল এবং অন্যদের পশ্চাৎপদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই সাংস্কৃতিক ফ্রেমিংয়ের কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে ‘ফ্যাসিবাদ’ টিকে থাকতে পেরেছে এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের ঘটনাগুলো সমাজের একাংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে অনেকে শুধুই রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখলেও, তার কাছে এটি মূলত একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচনা। এই পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন বয়ান ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির চর্চা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


পোস্টের শেষাংশে সাবেক এই সংস্কৃতি উপদেষ্টা জানান, দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি তার উত্তরসূরির জন্য একটি বিস্তারিত ‘নোট টু সাকসেসর’ রেখে গেছেন। সেখানে দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, শিল্প-সাহিত্যের বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক শিল্পের ইকোসিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে বিভিন্ন সুপারিশ উল্লেখ করেছেন বলেও জানান তিনি।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]