চাল সংগ্রহ কমিটিতে আ’লীগ নেতার নাম, প্রশাসনে তোলপাড়

আপলোড সময় : ১২-০৫-২০২৬ ০৮:০৩:২৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১২-০৫-২০২৬ ০৮:০৩:২৩ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটিতে কৃষক প্রতিনিধি হিসেবে এক আওয়ামী লীগ নেতার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় খুলনার প্রশাসনিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দফতর থেকে পাঠানো প্রস্তাবিত কমিটির তালিকায় ওই নেতার নাম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক। পরে পুরো ফাইলই ফেরত পাঠানো হয়েছে

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকা দরে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়। এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই জেলা পর্যায়ে একটি সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি গঠনের কথা ছিল।

তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর পুরোনো কমিটির আদলে একটি প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। সেখানে কৃষক প্রতিনিধি হিসেবে রাখা হয় খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মল্লিক আবিদ হোসেন কবিরের নাম।

বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আসার পর আপত্তি ওঠে। রাজনৈতিক পরিচয় থাকা একজন ব্যক্তিকে কৃষক প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। এ নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত সাংবাদিকদের বলেন, তার সঙ্গে আলোচনা না করেই আগের কমিটির কাঠামো পাঠানো হয়েছিল। কৃষক প্রতিনিধি হিসেবে যাঁর নাম দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আপত্তি থাকায় ফাইলটি ফেরত পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও প্রকিউরমেন্ট কমিটি গঠন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. তানভীর হোসেন বিষয়টিকে গুরুতর নয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “২০১০ সাল থেকে এভাবেই কমিটি হয়ে আসছে। এবার কমিটি গঠনের সময় ডিসি সম্মেলন চলছিল, তাই নির্ধারিত সময়ে সভা করা সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “নীতিমালায় উল্লেখ আছে, প্রতিনিধি নিয়োগ দেবেন জেলা প্রশাসক। আমি কেবল প্রস্তাব পাঠিয়েছি।” আওয়ামী লীগ নেতার নাম কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তিনি কৃষক প্রতিনিধি হিসেবেই রয়েছেন।”

তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। সূত্রটির ভাষ্য, সময় পেরিয়ে যাওয়ার অজুহাতে তড়িঘড়ি করে কমিটি অনুমোদনের চেষ্টা করা হচ্ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে না এলে হয়তো ওই কমিটি চূড়ান্ত হয়ে যেত।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কমিটি গঠনে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, কৃষক প্রতিনিধিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে প্রকৃত কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]