ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর এর তারারমেলা শাখার উদ্যোগে বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে “আমার মা” শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও শিশু-অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) বিকেল ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি ভবনের ১১৬ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জেসমিন আক্তার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সমাজসেবা সম্পাদক আলিমুদ্দিন আলিম ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঝিনাইদহ শহর শাখার পরিচালক শমসের মুবিন।
অনুষ্ঠানে শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশ, মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও পারিবারিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্য থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে অভিভাবক তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, একজন সন্তান কিভাবে আচার-আচরণ করবে, চলাফেরা ও বেড়ে ওঠবে তা শিক্ষা দেয় একজন 'মা'। নেপলিয়ন বলেছিলেন, আমাকে একটা সুন্দর মা দাও আমি একটা সুন্দর জাতি উপহার দিতে পারব। তাই আমি মনে করি বর্তমান সমাজের অবস্থা বিবেচনায় একজন মা’কে সবসময় সচেতন হতে হবে যে আমার সন্তানকে কিভাবে সঠিক পথে পরিচালনা করা যেতে পারে।
আরও এক অভিভাবক বলেন, আচার আচরণে যে নৈতিক শিক্ষা এই নৈতিক শিক্ষা আমাদের সমাজে-পরিবারে খুব প্রয়োজন। আমাদের এই নৈতিক শিক্ষার অবক্ষয়ের কারণে সন্তানরা বেশি বেশি খারাপ পথে যাচ্ছে। তাদেরকে টেনে ধরতে হবে এবং সেই ভূমিকাটা একজন মা'কেই পালন করতে হবে।
তারারমেলা শাখার পরিচালক খন্দকার আহনাফুজ্জানাম বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের মাঝে মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যস্ত জীবনে পরিবার ও সন্তানের মাঝে মানসিক দূরত্ব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় মা ও সন্তানের সম্পর্ককে আরও দৃঢ়, আন্তরিক ও মানবিক করে তোলার লক্ষ্যেই আমাদের এ আয়োজন।
উল্লেখ্য, গত পহেলা মে শুরু হয়ে সপ্তাহব্যাপী ১০ টি স্কুলের প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘আমার মা’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।