​জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে: কোটান্দর রাস্তার পাশে খামারের বর্জ্যে বিপন্ন পরিবেশ

আপলোড সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ১১:৫২:০৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-০৫-২০২৬ ১১:৫২:০৫ অপরাহ্ন


হবিগঞ্জ প্রতিনিধি  :

  ন্যূনতম নাগরিক সচেতনতা ও প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা না করে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের দক্ষিনাঞ্চল কোটানন্দর জনচলাচলের প্রধান সড়কের পাশে গরুর খামারের বর্জ্য ফেলে পরিবেশ বিষিয়ে তোলা হচ্ছে। উপজেলার ফদ্রখলা-কোটান্দর-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কের কোটান্দর এলাকায় খামারের স্তূপীকৃত গোবরের দুর্গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, কোটান্দর এলাকায় এলজিইডির পাকা রাস্তা ঘেঁষেই গড়ে তোলা হয়েছে গোবরের বিশাল ভাগাড়। স্থানীয় মৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দু শহীদের ছেলে রবিন মিয়া ও তার পরিবার কোনো প্রকার শোধন বা নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা ছাড়াই খামারের যাবতীয় বর্জ্য খোলা জায়গায় যত্রতত্র ফেলে রাখছেন। রোদ উঠলে এই বর্জ্য পচে তীব্র উৎকট গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে ওঠে; আবার বৃষ্টি হলে গোবর মিশ্রিত দূষিত পানি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে এক নরকীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে।
জনভোগান্তি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও পথচারীদের অভিযোগের অন্ত নেই: শিক্ষার্থী ও পথচারী:  রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় নাক-মুখ চেপে ধরেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। বর্জ্যের স্তূপ থেকে সৃষ্ট মশা-মাছি ও রোগজীবাণু আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ছে।

 দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ চর্মরোগের চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। ওই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন চালকরা জানান,  বর্জ্যের কারণে একদিকে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে উৎকট গন্ধে দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলে রাখা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫'-এর সরাসরি লঙ্ঘন। গোবর থেকে নির্গত মিথেনসহ অন্যান্য ক্ষতিকর গ্যাস বায়ুদূষণ ঘটানোর পাশাপাশি বৃষ্টির পানির সাথে মিশে পার্শ্ববর্তী কৃষি জমির উর্বরতাও নষ্ট করছে। রাস্তা কোনো ব্যক্তিগত ডাস্টবিন নয়। সাধারণ মানুষের চলাচলের পথকে যারা আস্তাকুঁড় বানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এই জনপদ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। ক্ষুব্ধ এক স্থানীয় বাসিন্দারা  প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

সচেতন মহলের প্রশ্ন- সড়কের পাশে  জনবসতিপূর্ণ এলাকায়  খামার পরিচালনার ন্যূনতম নিয়ম না মেনে কীভাবে এই অরাজকতা চলছে? খামার মালিক রবিন মিয়া ও তার বোনরা স্থানীয়দের অভিযোগের তোয়াক্কা না করায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে খামার মালিককে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (Biogas plant বা Compost pit) নিশ্চিত করতে এবং জনস্বার্থে এই অব্যবস্থাপনা বন্ধে জেলা ও  উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]