মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুকিম রাজু
আজ ২৫ বৈশাখ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে রবীন্দ্রজয়ন্তী। দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাহিত্যপ্রেমী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই মহান কবিকে স্মরণ করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আয়োজন।
১৮৬১ সালের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও দর্শনের মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেন। ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। তাঁর লেখা “আমার সোনার বাংলা” বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে পঞ্চগড়ের লেখক ও সাংস্কৃতিক কর্মী মোঃ শফিউল্লাহ রিপন বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাঙালির সংস্কৃতি ও মানবতার এক অনন্য প্রতীক। তাঁর সাহিত্য মানুষকে সত্য, সৌন্দর্য ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। যতদিন বাংলা ভাষা থাকবে, ততদিন রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে।”
আমেরিকা প্রবাসী বিশিষ্ট লেখক বদিউজ্জামান নাসিম বলেন, “রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলাদেশের বা ভারতের নন, তিনি বিশ্বসাহিত্যের সম্পদ। প্রবাসে থেকেও তাঁর গান, কবিতা ও দর্শন আমাদের শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্য আরও বেশি ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।”
তরুণ লেখক রাজু তুহিন বলেন, “রবীন্দ্রনাথ মানে অনুভূতি, ভালোবাসা ও আত্মার গভীর এক ভাষা। তাঁর লেখায় মানুষ নিজের জীবন ও সমাজকে নতুনভাবে ভাবতে শেখে। সময় বদলালেও রবীন্দ্রনাথ কখনো পুরোনো হন না।”
রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাহিত্যপ্রেমীদের মতে, বিশ্বকবির সৃষ্টি ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছেও চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।