​‎নবীগঞ্জে বৃষ্টি-শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় আগাম ধান কাটা, লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক

আপলোড সময় : ২৯-০৪-২০২৬ ০৭:৫৭:০০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-০৪-২০২৬ ০৭:৫৭:০০ অপরাহ্ন
‎
‎স্বপন রবি দাশ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।
‎
‎ভারি বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হাওরাঞ্চলে আগাম বোরো ধান কাটার চাপ বেড়েছে। আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে গিয়ে শ্রমিক সংকট, হারভেস্টর মেশিনের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় এবং বাজারে ধানের কম দামে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।
‎
‎উপজেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় সরেজমিনে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ধান পাকলেও সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে কিছু এলাকায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
‎ 
‎এর মধ্যে পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকায় দ্রুত ধান কাটার তাগিদ তৈরি হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় শ্রমিক না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কৃষকদের হারভেস্টর মেশিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
‎
‎নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দত্তগ্রামের কৃষক আব্দুর রকিব হক্কানী বলেন, শিলাবৃষ্টিতে তাঁর প্রায় দুই বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবশিষ্ট ধান দ্রুত কাটতে না পারলে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি দিয়ে হারভেস্টর ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
‎
‎দীঘলবাক ইউনিয়নের কৃষক শফিক মিয়া বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ধান কাটতে দুই হাজার টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে থাকায় উৎপাদন খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ঋণ নিয়ে চাষ করায় তিনি অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে আছেন বলে জানান।
‎
‎গজনাইপুর এলাকার কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, শ্রমিক সংকটের কারণে মেশিনে ধান কাটতে হচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টি ও কাদামাটির কারণে অনেক ক্ষেত্রে মেশিন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে না, এতে খরচ আরও বাড়ছে।
‎
‎উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে নবীগঞ্জ উপজেলায় ১৮ হাজার ৯৫৬ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ৫ হাজার ৬০৬ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ১৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি রয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২ হাজার ৪২২ মেট্রিক টন চাল। ধান কাটার কাজে বর্তমানে ১১৬টি হারভেস্টর মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে।
‎
‎সরকারি হিসেবে প্রতি বিঘা জমিতে হারভেস্টরের ভাড়া ১ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও মাঠপর্যায়ে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে হারভেস্টর মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, তেলের সংকট এবং প্রতিকূল পরিবেশে কাদামাটিতে কাজ করার কারণে ব্যয় বেড়েছে।
‎
‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফজলুল হক মনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দ্রুত ধান কাটতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
‎
‎কৃষকদের পক্ষ থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতি মোকাবিলায় প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মৌসুম শেষে অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়তে পারেন।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]