হাত-পা বিহীন জন্ম নেওয়া সন্তান: বাবা ফেলে যাবেন, মা বললেন ‘না’

আপলোড সময় : ২৮-০৪-২০২৬ ০১:৪১:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০৪-২০২৬ ০১:৪১:২১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরূপকাঠিতে হাত-পা বিহীন জন্ম নেওয়া সন্তানটিকে বাবা ফেলে আসতে বলেন। কিন্তু মা বাচ্চাকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন। বাবার অস্বীকৃতির মাঝেও হাত-পা বিহীন নবজাতকের প্রতি মায়ের সীমাহীন এ ভালোবাসা নিষ্ঠুর সমাজ-বাস্তবতাকেও অতিক্রম করল ।

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালে জন্ম নেওয়া হাত-পা বিহীন এক নবজাতককে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে মানবিক আবেগ ঘন পরিবেশ । সদ্য পৃথীবিতে আসা প্রতিবন্ধী এক মানবশিশুকে যখন জন্মদাতা বাবা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাল, তখন মমতাময়ী মা তাকে পরিত্যাগ করতে অস্বীকার সন্তানটি নিয়ে বাড়ি ফিরল।

২২ এপ্রিল জন্ম নেওয়া শিশুটি ও মা বর্তমানে সুস্থ অবস্থায় ফিরে গেলেন মঙ্গলবার সকাল ১১টায়, মা লিজার বাবার বাড়িতে। জন্ম নেওয়া ছেলে বাচ্চাটি আল্লাহতালা যেভাবেই পৃথিবীতে পাঠাক না কেন, মা লিজার ‌সন্তানের প্রতি মমতা, দৃঢ়তা ও অকৃত্রিম ভালোবাসা পরিপূর্ণই থাকল।

জানা যায়, প্রতিবন্ধী সন্তান জন্ম নেওয়ার কারণে বাবা শিশুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং চিকিৎসা ব্যয়ের কোনো দায়িত্ব নেননি। এমনকি সামাজিক লজ্জার ভয়ে শিশুটিকে ফেলে আসার কথাও বলেন। কিন্তু মায়ের অবস্থান ছিল সবার ঊর্ধ্বে, সম্পূর্ণ ভিন্ন। মা স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমার বাচ্চাকে আমি ফেলে আসতে পারব না, আমি তাকে মাদ্রাসায় পড়াব।”

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বরত চিকিৎসকরা নবজাতকের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করতে সম্মত হয়। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিশুটি বর্তমানে সম্পন্ন সুস্থ আছে।

পরবর্তীকালে চিকিৎসা শেষে মা ও নবজাতক বাবা বিহীন অবস্থায় বাড়ি ফিরে গেছে।

এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মায়ের অসীম ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি বাবার হৃদয়হীন আচরণ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সেই সঙ্গে হাসপাতাল ও ডাক্তারের মানবিক অবদানের কথা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

এই ঘটনা পৃথীবির সব প্রতিবন্ধকতাকে উপেক্ষা করে মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক পরাবাস্তব উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]