শিশু হোসাইন হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন

আপলোড সময় : ২৭-০৪-২০২৬ ০৫:১৫:১৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৪-২০২৬ ০৫:১৫:১৭ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সিনেমার থ্রিলারকেও হার মানিয়েছে ১১ বছর বয়সী শিশু হোসাইন হত্যাকাণ্ড। অপরাধ জগতের জীবনের স্বাদ নেওয়া এবং জেল খাটা কেমন, মূলত এই ভয়ঙ্কর কৌতূহল থেকেই পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করেছে সমবয়সী ও কিশোর বন্ধুদের একটি দল। এঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের এই রোমহর্ষক রহস্য উন্মোচন করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-নেত্রকোণা জেলার সৈয়দপুর থানার যাজনের ছেলে ইয়াসিন (১৮), বরগুনা জেলার আমতলী থানার সোহেল সিকদারের ছেলে সাইফুল (১৬), বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার জলিলের ছেলে তানজীয় (১৭), লালমনিরহাট জেলার মৃত খগেনের ছেলে ইউনুস (১৫), ফতুল্লার মৃত কালামের ছেলে হোসাইন (১৫) ও ফতুল্লার অহিদুল আলমের ছেলে রাহাত (১৩)।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে ৪ জন এজাহারভুক্ত এবং তদন্তে আরো ২ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। মামলার ১ নম্বর আসামি ইয়াসিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, ফতুল্লা রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দেওয়া ও মাদক সেবনকারী কয়েকজন কিশোর এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। ঘটনার দিন অভিযুক্ত সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিল যে, ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়।’ সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই খুনের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া শিশু হোসাইনকে টার্গেট করে। হোসাইন তার বাবার সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করত। তাকে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে দাপা ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার মিঠু মিয়ার পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল তাদের আরো তিন সহযোগী রাহাত, হোসাইন ও ওমর। সবাই মিলে হোসাইনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে এবং লাশটি সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

গত ১৮ এপ্রিল সকালে ফুল বিক্রি করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় হোসাইন। দীর্ঘ ৫ দিন পর ২৩ এপ্রিল (শুক্রবার) বিকেলে ওই পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তার গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে পুলিশ। প্রথমে ইয়াসিন নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরো ৫ জনকে আটক করা হয়। ​হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত আরো একজন এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কিশোরদের মধ্যে এমন ভয়ঙ্কর অপরাধপ্রবণতা ও বিকৃত মানসিকতা সমাজ ও পরিবারের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]