বরিশালের হিজলা উপজেলায় সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে রমরমিয়ে চলছে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য। প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমের চেয়ে বাইরের কোচিং সেন্টারে বেশি মনোযোগী হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হতদরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হিজলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের আশেপাশেই ঘর ভাড়া নিয়ে গড়ে তুলেছেন ব্যক্তিগত কোচিং সেন্টার। বিশেষ করে হরিনাথপুর ইউনিয়নের বদর টুনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সেচিব মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাউরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাউলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি সংহতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিসিডি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক নিজ বাড়ি থেকে যাতায়াত করেন এবং যথাযথ সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না।
শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চেয়ে তারা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কোচিংয়ে আসার জন্য বেশি উৎসাহিত বা চাপ প্রয়োগ করেন। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে অলস সময় পার করলেও কোচিংয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য মুখিয়ে থাকেন। একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে আক্ষেপ করে বলেন, "আমার আয় খুব সীমিত। আমার সন্তান মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও কোচিংয়ের খরচ চালাতে পারছি না বলে সে পিছিয়ে পড়ছে। স্কুলে ঠিকমতো পড়া হয় না, শিক্ষকরা শুধু কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
আমার খুব ইচ্ছা ছিল ওকে ভালো করে পড়ানোর, কিন্তু অর্থের অভাবে পারছি না। তার মতো শত শত অভিভাবক এখন দিশেহারা। ক্লাসে সঠিক পাঠদান না হওয়ায় প্রাইভেট বা কোচিং করা ছাড়া উপায় থাকছে না, যা সাধারণ পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে হিজলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. মহিউদ্দিন আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারি নীতিমালার বাইরে শিক্ষকদের কোচিং করানোর কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, "বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি।
তদন্ত সাপেক্ষে দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুতই এই ‘কোচিং সিন্ডিকেট’ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।,