​৫'শত পরিবারের ভাগ্য গড়া সেই ফাতেমা আজ দেনার দায়ে ফেরারি

আপলোড সময় : ২৭-০৪-২০২৬ ০২:৪৮:৪০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৭-০৪-২০২৬ ০২:৪৮:৪০ অপরাহ্ন

মাহাবুব আলম,রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি :

সীমান্তের অবহেলিত জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় এক সময় আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছিলেন ফাতেমা বেগম। অভাবের সাথে লড়াই করে, শূন্য হাতে শুরু করে গড়ে তুলেছিলেন পাপোশ তৈরির এক বিশাল সাম্রাজ্য। যার হাত ধরে স্বাবলম্বী হয়েছিল সীমান্তবর্তী এলাকার প্রায় ৫শত পরিবার, সেই সংগ্রামী নারী উদ্যোক্তা ফাতেমা আজ নিজেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে সব হারিয়ে এখন উধাও। দেনার দায়ে কারখানা বিক্রি করে তিনি এখন কোথায় আছেন, তা কেউ জানে না। 

বলছি রাণীশংকৈল শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে কাশিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কাদিহাট জোতপাড়া গ্রামের কথা। এই গ্রামেরই অতিসাধারণ এক নারী ফাতেমা। অভাবের সংসারে শৈশবে স্কুলের বারান্দায় পা রাখা হয়নি ফাতেমার। অল্প বয়সে বিয়ে, তারপর দুই সন্তানের জননী সব মিলিয়ে দারিদ্র্য যখন পরিবারটিকে গ্রাস করছিল, তখনই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। ১৯৯৯ সালে স্বামী বাবুল হোসেন ভারত থেকে ফিরে এসে মুদির দোকান দিলেও পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। সেই সংকটময় মুহূর্তে স্থানীয় একটি এনজিও ইএসডিও থেকে মাত্র ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে চারটি মেশিন দিয়ে বাড়িতেই পাপোশ তৈরির কাজ শুরু করেন। ২০০৪ সালে শুরু করা সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগতা ব্যবসায় সাফল্যের জন্য উপজেলা পর্যায়ে জয়ীতা ও জাতীয় ভাবে পুরস্কারও পান। নিজের মনোবল আর কঠোর পরিশ্রমে ফাতেমার কারখানায় মেশিনের সংখ্যা ৪ থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭টিতে। তৈরি হয় দুটি বড় কারখানা। তার কারখানায় তৈরি বাহারি নকশার টেকসই পাপোশের কদর ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ফাতেমার কারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছিল এলাকার প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীর।

সাফল্যের এই জয়যাত্রা থমকে যায় বৈশ্বিক মহামারি করোনা এবং পরবর্তী সময়ে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে। উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য বাজার মূল্য না পাওয়া এবং কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায়, ধীরে ধীরে স্থানীয়দের কাছে দিন কিস্তি, বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যাংকের ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন এই সফল উদ্যোক্তা। পুঁজি সংকটে নতুন মেশিন কেনা তো দূরের কথা, দৈনিক উৎপাদন বজায় রাখাই দায় হয়ে পড়ে তার জন্য। কারখানার বর্তমান মালিক আবু সায়েম পান্না জানান, ঋণের বোঝা সইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের তিল তিল করে গড়া ফ্যাক্টরি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন ফাতেমা। এরপর স্বামী ও পরিবারসহ তিনি গ্রাম ছেড়ে উধাও হয়ে যান। এ প্রসঙ্গে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান বকুল বলেন,এক সময় যার হাত ধরে সীমান্তবর্তী গ্রামে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছিল, শত শত পরিবার আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছিল, সেই ফাতেমা আজ দেনার দায়ে ফেরারি।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]