বারবার লোকসান, তরমুজ থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন কয়রার কৃষকেরা

আপলোড সময় : ২৬-০৪-২০২৬ ১০:৪৭:১৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৬-০৪-২০২৬ ১০:৪৭:১৬ অপরাহ্ন

 

শাহিদুল ইসলাম কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি




খুলনার কয়রার তরমুজের খ্যাতি দেশজুড়ে। সুন্দরবনের উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় উৎপাদিত এই ফল একসময় উপজেলার কৃষকদের জন্য লাভজনক ছিল। কিন্তু টানা কয়েক বছরের লোকসানে এবার অঞ্চলটিতে তরমুজ আবাদে বড় ধস নেমেছে। অনেক কৃষক ঝুঁকি এড়াতে চাষ কমিয়েছেন, কেউ কেউ একেবারেই ছেড়ে দিয়েছেন।

কৃষকদের মতে, উৎপাদনের ঝুঁকি, বাজারদরে অস্থিরতা, সেচসংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মিলিয়ে তরমুজের চাষে এখন লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি। একসময় যে তরমুজ উপকূলের অর্থনীতিতে গতি এনেছিল, সেটিই এখন অনেকের কাছে অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে উঠছে। খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত মৌসুমে খুলনায় ১৭ হাজার ২৯১ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছিল। উৎপাদিত তরমুজের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। চলতি মৌসুমে আবাদ কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯৩০ হেক্টরে। অর্থাৎ ১ বছরে ৪ হাজার ৩৬১ হেক্টর জমিতে চাষ কমেছে, কমার পরিমাণ ২৫ শতাংশের বেশি। খুলনার উপকূলীয় উপজেলাগুলো একসময় লবণপানির চিংড়িঘেরের জন্য পরিচিত ছিল। ঘূর্ণিঝড়-উপদ্রুত এসব এলাকায় সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে লবণপানির চিংড়ি চাষ কমে আসে। লবণের প্রভাব কাটিয়ে জমিতে ফেরে সবুজ ফসল।

এক ফসলি আমন ধানের জমিতে তরমুজ হয়ে ওঠে কৃষকের নতুন ভরসা। অল্প সময়ে বিনিয়োগের দ্বিগুণ–তিন গুণ লাভের আশায় দিন দিন চাষ বাড়তে থাকে। কয়রার পাটনীখালী  গ্রামের আঃ হালিম  বলেন, তরমুজের টাকা দিয়েই এলাকার অনেক মানুষের ভাগ্য ফিরেছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে  তরমুজ চাষে লোকসান হচ্ছে ।


বীজ পোঁতা থেকে বিক্রি পর্যন্ত দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। কখনো বীজ ফোটে না, কখনো ভাইরাস বা পোকার আক্রমণ, কখনো পানির সংকট, কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে দাম কমে যাওয়ার ভয় তো আছেই। ভালো ফলনের পাশাপাশি সঠিক সময়ে বাজারজাতকরণ এবং মধ্যস্বত্বভোগী মুক্ত বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন তরমুজ চাষীদের মূল করণীয়।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]