নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে জাটকা বিরোধী অভিযানে যাওয়ার পথে মৎস্য অধিদপ্তরের তিন কর্মচারীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার পুরাতন স্টিমারঘাট সংলগ্ন বালুমহাল স্টেডিয়াম এলাকায় এই হামলার শিকার হন তারা।
আহতরা হলেন— মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের ফিল্ড এসিস্টেন্ট নাজিম উদ্দিন, মো. শামীম ও সিয়াম হোসেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাজিম উদ্দিন জানান, রাতে স্পিডবোট নিয়ে নদীতে জাটকা বিরোধী অভিযানে অংশ নিতে তারা মোটরসাইকেলযোগে স্টিমারঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বালুমহাল স্টেডিয়ামের কাছে পৌঁছালে অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে ওত পেতে থাকা হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। মোটরসাইকেল থামানো মাত্রই দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ২০-২৫ জনের একটি দল তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় প্রভাবশালী মোহাম্মদ হোসেন গাজী (পিতা: ইঙ্গুল উদ্দিন গাজী), আলমগীর সরদার (পিতা: বাছেদ সরদার) ও জহির মাতব্বরের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় সরাসরি জড়িত হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা হলেন:
১. মোস্তফা আকন (৩২), ২. কবির হোসেন (৩৫), ৩. সবুজ বেপারী (৪০), ৪. শহিদ বেপারী (৩০), ৫. সাইফুল মুন্সী (৩৫), ৬. মান্নান ফকির (৩০), ৭. জসিম সরদার (৩৬), ৮. রবিউল মুন্সী (২৬), ৯. জামাল চৌকিদার (৩৫) এবং ১০. সুমন সরদার (৩৫) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জন।
হামলাকারীরা মৎস্য অধিদপ্তরের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে খবর পেয়ে মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মেহেন্দীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, "সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।,