ছেলের মোটরসাইকেলের জ্বালানি নিতে লাইনে দাঁড়ালেন মা

আপলোড সময় : ২৩-০৪-২০২৬ ০৭:০৬:০৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৪-২০২৬ ০৭:০৬:০৩ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে জীবিকা। ছেলের মোটরসাইকেলের পেট্রোল সংগ্রহ করতে প্রখর রোদে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন মা—এমন দৃশ্য দেখা গেছে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ডেমলা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়।

দেখা গেছে, ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক সাগর বৈদ্যের মা বিথিকা রানী বৈদ্য লাইনে অপেক্ষা করছেন। তেল সংকটের কারণে সাগর বৈদ্য মোটরসাইকেল চালাতে না পেরে আপাতত কৃষি শ্রমিকের কাজ করছেন। সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়ায় ছেলের পেশা সচল রাখতে নিজেই তেলের লাইনে দাঁড়িয়েছেন তার মা।

বিথিকা রানী বলেন, আমার ছেলে মোটরসাইকেল ভাড়া চালানোর পাশাপাশি কৃষিকাজ করে সংসার চালায়। কয়েকদিন ধরে তেল না পেয়ে সে মাঠে কাজ করতে গেছে। আমি দুই দিন ধরে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গতকাল তেল দেওয়ার খবর পেয়ে আজ আবার এসেছি।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সারাদেশে জ্বালানি সংকটের কারণে পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার থেকে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে তেল দেওয়া হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ পাঁচ দিন পর মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে তেল সরবরাহ শুরু হয়।

এর আগে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নে তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারের সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর পাঁচ দিন তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজারের বেশি মোটরসাইকেল রয়েছে। তেল সংকটে এসব যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল চালকেরা বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। এতে পরিবারগুলোতে আর্থিক চাপ বাড়ছে।

ফিলিং স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ৭টা থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের তেল সরবরাহ করা হয়। পরে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু তেল দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়মের বাইরে তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, শত শত মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তার দুই পাশে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও নিশ্চিত নন, আদৌ তেল পাবেন কিনা।

মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য দেবাশীষ গায়েন বলেন,কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ ছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ইউনিয়ন পরিষদের সমন্বয়ে আবার তেল দেওয়া শুরু হয়েছে। সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে সবাই তেল পাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]