কে এম সোহেব জুয়েল বরিশাল :ঃ
চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের মাঝে হাইব্রিডে বিপ্লব এনেছে হীরা-১ ধান। অন্যান্য জাতের ধানের তুলনায় চাষিরা রোগ ও পোকার আক্রমণবিহীন হীরা-১ জাতের হাইব্রিড ধান চাষ করে এবারও বাম্পার ফলন পেয়েছেন।
“হীরা ধান চাষ করুন আগাম কেটে গোলা ভরুন”, “হীরা ধান ঝড়ে না চাষী ভাই ঠকে না” শ্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের উত্তর জামবাড়ি এলাকায় অনুষ্ঠিত হীরা ধানের মেগা মাঠ দিবসের আলোচনা সভায় স্থানীয় কৃষক যতীন চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, তিনি তার ৬০ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের হীরা-১ বোরো ধান চাষ করে এবার বাম্পার ফলন পেয়েছেন। আগামীতেও তিনি এ জাতের ধান চাষ করবেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশে যেসব হাইব্রিড ধান চাষ হয় হীরা-১ ধান তার মধ্যে অন্যতম। উচ্চ ফলনশীল, মানসম্মত দানা, আবহাওয়া সহনশীল ও সহজ চাষযোগ্য হওয়ায় এবার তিনি তার জমিতে প্রতি শতকে এক মনেরও অধিক ধান ফলন পেয়েছেন। যেকারণে এই ধান তাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করছে।
সুপ্রীম সিড কোম্পানির আয়োজনে হীরা-১ ধানের মেগা মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষক নরেন্দ্র নাথ বৈদ্যর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কোম্পানির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সিরাজ উল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জোনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ মশিউর রহমান, উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র পাড়, রোজিনা আক্তার, কোম্পানীর হারতা ইউনিয়নের টেরিটোরি ম্যানেজার কৃষিবিদ তানভীর মাহমুদ, ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হক, হীরা ধানের স্থানীয় পরিবেশক সুশীল বড়াল। কোম্পানীর রিজিওনাল ম্যানেজার (এ্যাকটিং) নির্মল চন্দ্র সরকারের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কৃষক যতীন চন্দ্র দাস, শ্যামল মজুমদার প্রমুখ।
মাঠ দিবসের শুরুতে অতিথিরা কৃষকদের সাথে নিয়ে হীরা-১ ধানসহ অন্যান্য জাতের চাষ করা কয়েকটি বোরো ক্ষেত পরিদর্শন করে ধানের ছড়া সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে গণনা করে হীরা-১ ধানের প্রতিটি শীষে গড়ে ৩০০ থেকে ৩১০টি ধান পাওয়া গেছে। অন্যান্য জাতের ধানে সর্বোচ্চ ১৮০টি ধান পাওয়া যায়।
কৃষিবিদ মশিউর রহমান বলেন, হাইব্রিড হীরা-১ ধান অন্য যেকোন হাইব্রিড ধানের তুলনায় বেশি ফলন হয়। রোগ ও পোকার আক্রমণ বিহীন ১৪৫ দিনের জীবনকাল হীরা-১ ধানের জাতে প্রতি শতকে এক মণেরও অধিক ধান পাচ্ছেন কৃষক। পাশাপাশি এ ধানের খোসা অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় প্রতি ১০০ মণ ধানে ৭৩ মণের অধিক চাল পাওয়া যায়। এছাড়াও এ ধানের চালের ভাত অন্যান্য জাতের মতো আঠালো হয় না।
কোম্পানির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সিরাজ উল্লাহ সভায় উপস্থিত প্রায় দুই শতাধিক কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, বোরো চাষের শুরুতে আগে ভাবতে হবে কোন ধানের বীজ বপন করে ভালো ফলন পাওয়া যাবে। কারণ এটা শুধু বীজ নয়; একটি পরিবারের স্বপ্ন।
তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশে যে কয়টি কোম্পানী হাইব্রিড ধানের আমদানির অনুমতি পেয়েছে তাদের মধ্যে একটি সুপ্রীম সিড। কোম্পানিটি প্রথম চীন থেকে হীরা ধানের বীজ এনে বাংলাদেশে বাজারজাত শুরু করে। এরপর তারা নিজস্ব উৎপাদনে যায়। বর্তমানে ৯০ শতাংশ বীজ নিজেরাই উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন।
উজিরপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র পাড় জানিয়েছেন, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় শতকরা ৮০% কৃষক হাইব্রিড জাতের হীরা ধান চাষ করেছেন।