ওসমানীনগরে পানিবন্দি ৪০০ পরিবার, দ্রুত সমাধানের দাবি

আপলোড সময় : ২৩-০৪-২০২৬ ১২:৪৯:২৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৪-২০২৬ ১২:৪৯:২৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার অংশে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনাগত ঘাটতির কারণে স্থানীয় জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার অভাবে মহাসড়কসংলগ্ন বাসাবাড়িতে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা, যা ধীরে ধীরে অকাল বন্যায় রূপ নিচ্ছে।

এরই মধ্যে দয়ামীর ইউনিয়নের চকবাজার এলাকার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রায় ৪০০ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও এখনো কার্যকর কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

জানা যায়, উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের চকমন্ডল কাপন গ্রামে মহাসড়ক সম্প্রসারণকাজের সময় গ্রামের পূর্বের পানিনিষ্কাশনের স্থায়ী ড্রেন ভরাট করে ফেলা হলেও নতুন করে কোনো ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই পুরো গ্রামের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট হাঁটুপানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

মহাসড়কের পাশে মফিজ মিয়া ফিলিং স্টেশনের সম্মুখ দিয়ে চকমন্ডল কাপন গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গ্রামটির ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে পুনরায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে মিলিত হয়েছে। ওই সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আব্দুল আজিজের বাড়ি থেকে তারিস মিয়ার বাড়ি, আব্দুল গফুরের বাড়ি থেকে বিপরীতমুখী সড়ক হয়ে আব্দুন নুরের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় প্রায় ৪০০টি পরিবারের বসবাস।

এসব সড়কের পাশের বসতবাড়িগুলো পানিতে ডুবে রয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় গ্রামবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মসজিদ, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থী, রোগী, প্রসূতি মা, বয়োবৃদ্ধসহ গবাদিপশু সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে।

এছাড়া চলতি বৈশাখী ফসল উৎপাদন ও মাড়াই কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানির কারণে শিশুদের পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা এবং প্রসূতি মায়েদের চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চলমান হাম ও রুবেলা পরিস্থিতির মধ্যেও এই এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে বাড়তি শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে টিকাদান কার্যক্রম ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহে শিশুদের উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে।

গ্রামের সমাজসেবী ও দয়ামীর বাজারের ব্যবসায়ী হাফিজ আবু ইউসুফ আজাদ বলেন, ‘আমাদের গ্রামটি মহাসড়কের পাশে হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু এবার মহাসড়ক সম্প্রসারণের সময় পুরানো ড্রেন বন্ধ করে দেওয়ায় নতুন কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আমরা সম্পূর্ণ পানিবন্দি হয়ে পড়েছি।’

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, এটি সম্পূর্ণ অবহেলার ফল। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

ঢাকা–সিলেট ছয় লেন প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক দেবাশীষ রায় বলেন, স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর ঘরবাড়ি নির্মাণের কারণেই এ ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে মহাসড়ক সম্প্রসারণকাজের ফলে স্থানীয়দের কোনো দুর্ভোগ হলে তা নিরসনে আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

এ অবস্থায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স দশম তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]